কেন্দ্রের নির্দেশে পরিবহণ ক্ষেত্রে ফি বাড়িয়েছে রাজ্য, স্পষ্টিকরণ দিলেন মানিক দে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ মার্চ৷৷ ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ যানবাহন সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি রাজ্য সরকার বৃদ্ধি করেনি৷ কেন্দ্রীয় নির্দেশ মেনে সারা দেশের সাথে এরাজ্যেও ফি বৃদ্ধির নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে৷ মঙ্গলবার মহাকরণে স্পষ্টীকরণ দিলেন পরিবহনমন্ত্রী মানিক দে৷
এদিন তিনি জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ যানবাহন সংক্রান্ত সমস্ত ফি বেড়েছে৷ ২০১৬ সালে ২৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার সেন্ট্রাল মোটর ভেহিক্যাল রুল ১৯৮৯’র ২২তম সংশোধনীর নির্দেশিকা জারি করেছে৷ তাতে, গোটা দেশেই ফি বৃদ্ধি পেয়েছে৷ ফলে, আগের ফি’র তুলনায় কয়েকশগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে৷
পরিবহনমন্ত্রী জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ যানবাহন সংক্রান্ত ফি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন৷ রাজ্য সরকার কেবল কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা কার্যকর করে থাকে৷ ফি বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সাথে কোন আলোচনা করেনি৷ এবিষয়ে নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর রাজ্যের তরফে আপত্তি জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সারা দেশের সাথে ত্রিপুরাতেও এই নির্দেশিকা চালু করতে হবে৷ পরিবহনমন্ত্রী জানান, একারণে শুরুতে রাজ্যে ফি বৃদ্ধির কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল না৷ কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যেও এই নির্দেশিকা চালু করার জন্য চাপ দিলে গত ১৪ই মার্চ রাজ্যেও তা কার্যকর হয়েছে৷
পরিবহনমন্ত্রী এই ফি বৃদ্ধি নিয়ে মন্তব্য করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হয়েছে৷ তিনি কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে ব্যতিক্রমী বলেও উষ্মা প্রকাশ করেছেন৷ তিনি জানান, কেন্দ্র আরো নির্দেশ দিয়েছে যেদিন থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে সেদিন থেকে এরিয়ার সংগ্রহ করতে হবে৷ কিন্তু রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে কোন এরিয়া সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না, তাই এবিষয়ে বিবেচনা করার জন্য কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে৷ তবে, ১৪ মার্চ থেকে নির্দেশিকা মেনেই ফি নেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানো হয়েছে৷
এদিন তিনি আরো জানিয়েছেন, মোটর ভেহিক্যাল এ্যাক্ট ১৯৮৮’র সংশোধনীর খসড়া রাজ্যের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ তাতে, অনেক বিষয়ে রাজ্য আপত্তি জানিয়েছে বলে পরিবহনমন্ত্রী জানান৷ তিনি জানিয়েছেন, এখন কেন্দ্রীয় সরকার এবিষয়ে সাব কমিটি গঠন করেছে৷ কিন্তু সংসদে এই বিল পাশ হলে দেশের অধিকাংশ মোটর শ্রমিকদের রোজগারে প্রভাব পড়বে৷
পরিবহনমন্ত্রী জানান, এদেশের রাস্তাঘাটের পরিকাঠামোর নিরিখে ঐ বিল কার্যকর ভীষণ সমস্যার সৃষ্টি করবে৷ তাই জনস্বার্থে এই বিল আইনে পরিণত না করুক কেন্দ্রীয় সরকার, চাইছেন পরিবহনমন্ত্রী৷ তাঁর মতে, মোটর শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী বিল এনে তাদের উপার্জনে আঘাত আনা সঠিক হবে না৷ তাই এই বিল নিয়ে আরো চিন্তাভাবনা করুক কেন্দ্রীয় সরকার৷