নারী দিবসে রাজ্যে নিরাপত্তাহীন নারীরা, শিশুকন্যা ধর্ষিতা, পৃথক স্থানে দুই গৃহবধূকে ধর্ষণের ব্যর্থ চেষ্টায় একজনকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/উদয়পুর, ৮ মার্চ৷৷ ঘটা করে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস৷ এরই মাঝে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় নারীদের নিরাপত্তা রাজ্যে প্রশ্ণের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে৷ একটি ঘটনায় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে৷ নারী ক্ষমতায়নে রাজ্য কৃতিত্ব দাবী করলেও তাদের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতায় নারী দিবসেই কলঙ্কিত রাজ্য৷ ফলে, নারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে নারী দিবস পালনের সার্থকতা ফিকে হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তথ্যাভিজ্ঞ মহল৷
সদ্য বিয়ে হওয়া গৃহবধূকে ধর্ষণ করতে গিয়ে গণধোলাই খেল এক যুবক৷ ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে ধলাই জেলার ছাওমনু থানার অধীন চিকন ছড়া এলাকায়৷ গণধোলাইয়ে গুরুতর আহত ঐ যুবক বর্তমানে কুলাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ তার মাথায় ও বুকে মারাত্মক আাঘাত লেগেছে৷ এই ব্যাপারে ছাওমনু থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ পুলিশ এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে৷
সংবাদে প্রকাশ, চিকনছড়ার রঘু ত্রিপুরা বখাটে যুবক হিসেবে পরিচিত৷ আবার সে উপজাতি ভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য৷ বিভিন্ন অসামাজিক কাজের সাথেও সে যুক্ত রয়েছে৷ এলাকারই সদ্য বিবাহিত এক গৃহবধূর দিকে কুনজর দেয়৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যারাতে ঐ যুবক গৃহবধূর বাড়িতে যায়৷ সম্ভবত তখন গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে অনুপস্থিত৷ তখন ঐ গৃহবধূ দরজা বন্ধ করে ঘরে টিভি দেখছিলেন৷ জরুরী কাজ আছে বলে দরজা খোলার জন্য ডাকাডাকি করে রঘু৷ গৃহবধূ দরজা খুলতেই ভেতরে প্রবেশ করে কামুক রঘু ঐ গৃহবধূকে ঝাপটে ধরে এবং কুপ্রস্তাব দেয়৷ তাতে সম্মতি না দিয়ে গৃহবধূ চিৎকার চেচামেচি শুরু করেন৷ তখন অন্য ঘরে থাকা শ্বশুর শাশুড়ি ছুটে আসনে এবং চিৎকার চেচামেচি করলে আশেপাশের লোকজনও আসেন৷ হাতেনাতে পাকড়াও করে রঘু ত্রিপুরাকে গণধোলাই দেয়৷ তাতে সে গুরুতর জখম হয়৷ তারপর খবর দেওয়া হয় ছাওমনু থানায়৷ পুলিশ গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রঘুকে উদ্ধার করে কুলাই হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সেখানে চিকিৎসকরা তাকে ভর্ত্তি করেন৷ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে তার অবস্থা স্থিতিশীল৷ মাথায় ও বুকে মারাত্মক আঘাত লেগেছে৷ এদিকে, এলাকাবাসী সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরও এক কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল রঘু ত্রিপুরা৷ তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঐ কিশোরী তার গালে চড় কষিয়েছিল৷ এলাকাবাসী রঘু ত্রিপুরার এই ধরনের কুকীর্তিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন৷ তারা তার কঠোর শাস্তির দাবী করেছেন৷
প্রতিবেশী মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে৷ ঘটনাটি ঘটেছে কাকড়াবন থানার অধীন ধূপতলী এলাকায় মঙ্গলবার রাতে৷ সংবাদে প্রকাশ, ঐ এলাকার রাজু রিয়াং প্রতিবেশী গঙ্গারায় দেববর্মার বাড়িতে যায়৷ তখন ঘরে কেউ ছিলেন না স্ত্রী সবিতা দেববর্মা ছাড়া৷ ঘরে প্রবেশ করে রাজু সবিতাকে কুপ্রস্তাপ দেয়৷ তাতে রাজি না হওয়ায় রাজু ঐ মহিলার উপর ঝাপিয়ে পড়ে৷ ধস্তাধস্তি হয়৷ একসময় রাজু ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে৷ তাতে সবিতা গুরুতর জখম হন৷ পরে সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়৷ গুরুতর আহত অবস্থায় সবিতা দেববর্মাকে টেপানিয়াস্থিত গোমতী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ তার অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় আগরতলায় জি বি হাসপাতালে রেফার করা হয়৷ এদিকে, অভিযুক্ত রাজু রিয়াংয়ের বিরুদ্ধে কাকড়াবন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ ঘটনার চবিবশ ঘন্টা অতিক্রান্ত হলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ৷ সে পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে বলে পুলিশের দাবি৷
পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রতিবেশী যুবককে৷ ঘটনাটি ঘটেছে মন্দিরনগরী উদয়পুরের গকুলপুর টাউন কলোনীতে৷ ধৃত কিশোরের নাম সুজন দে (১৭)৷ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে আর কে পুর থানায়৷ জানা গিয়েছে, সুজন প্রতিবেশী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করেছে৷ সেই মোতাবেক নির্যাতিতা শিশুর অভিভাবক আর কে পুর থানায় মামলা করেছিল৷ সেই মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ সুজনকে গ্রেপ্তার করেছে৷ সুজন স্বীকার করেছে যে সে ঐ শিশুকে ধর্ষণ করেছে৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে৷ আগামীকাল তাকে কোর্টে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে৷