নারী আন্দোলনে পুরুষদেরও একাত্ম হবার আহ্বান তথ্য ও সংসৃকতি মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৮ মার্চ৷৷ তথ্য ও সংসৃকতি মন্ত্রী ভানুলাল সাহা নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নারী আন্দোলনের সাথে পুরুষদেরও একাত্ম হবার আহ্বান জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, সমাজে নারী ও পুরুষকে সমান অধিকার দিতে হবে৷ নতুবা নারী আন্দোলন অধরাই থেকে যাবে৷ তথ্য ও সংসৃকতি মন্ত্রী সাহা আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ১০৪ তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনাচক্রের উদ্বোধন করে এই অভিমত ব্যক্ত করেন৷ তিনি বলেন, আমাদের সমাজে নারী পুরুষের মধ্যে প্রভেদের মূল কারণ হল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি৷ নারী মুক্তির একমাত্র পত হল সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা৷ ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারী মুক্তি সম্ভব নয়৷ তিনি বলেন, আমাদের দেসেও নারীদের অবস্থা খুব একটা ভাল নয়৷ এখনো মহিলারা নানান সুযোগ থেকে বঞ্চিত৷ তারা সমকাজে ন্যায্য মজুরি পায় না৷ দেশে ১০ লক্ষ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ৫ লক্ষের ওপর সহায়িকা রয়েছেন৷ তাদের না আছে পর্যাপ্ত বেতন, না আছে অন্যান্য সুযোগ সুবিধা৷ তথ্য ও সংসৃকতি মন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার ত্রিপুরায় নারী কল্যাণে বিকল্প পথ নিয়ে চলছে৷ নেওয়া হচ্ছে গুচ্ছ কর্মসূচী৷ তিনি বলেন, অধিকার আপনা আপনি আসে না৷ তার জন্য লড়াই করতে হয়৷ এজন্য মহিলাদের আরো দৃঢ়চেতা হতে হবে৷ অত্যাচার, নির্যাতন, ও গার্হস্থ্য হিংসার বিরুদ্ধে সমাজকে আরো সচেতন হতে হবে৷
সভাপতির ভাষণে ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন মণিকা দত্ত (রায়) বলেন, অধিকার কারোর দয়ার দান নয়, তা সংগ্রাম করে আদায় করে নিতে হয়৷ অধরা অধিকারগুলো আদায়ে আমাদের আরো লড়াই করতে হবে৷ সম্মাননীয় অতিথির ভাষণে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র পারিষদ ফুলন ভট্টাচার্য বলেন, আজকের দিন আমাদের দাবি, অধিকার অর্জনের শপথের দিন৷ আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে মহিলাদের আরো অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে বলে তিন মন্তব্য করেন৷ এছাড়া, বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব চৈতন্য মূর্তি ও আগরতলা মহিলা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যক্ষা ড গীতা দেবনাথ৷ স্বাগত ভাষণ দেন সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা ডি ডার্লং৷ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এ বছরের ভাবনা ‘কর্মসংস্থানের পরিবর্তনশীল বিশ্বে মহিলা , ২০৩০ এর মধ্যে ৫০ , ৫০’৷ এই দিবস উপলক্ষ্যে দ্রোণাচার্য জিমন্যাস্ট কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দী, পদ্মশ্রী জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার, খ্যাতনামা গোলরক্ষক লক্ষিতা রিয়াং এবং জুনিয়র জিমন্যাস্ট অস্মিতা পালকে স্মারক ও শাল ও অভিজ্ঞানপত্র দিয়ে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়৷ অতিথিগণ এই সম্মাননা তুলে দেন৷ অভয়নগর হোমের ছাত্রীরা অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে৷ সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনাচক্রে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মহিলারা উপস্থিত ছিলেন৷