এডিসির অধিবেশনে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য ৬৬৭ কোটি ১৬ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকার বাজেট পেশ, গতবারের তুলনায় বাড়ল ১৯.৪৪ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ মার্চ৷৷ সোমবার এডিসির অধিবেশনে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য ৬৬৭ কোটি ১৬ লক্ষ ৬৪

সোমবার খুমুলুঙয়ে এডিসির বাজেট অধিবেশনে বাজেট প্রস্তাব পেশ করে বক্তব্য রাখেন সিইএম রাধাচরণ দেববর্মা৷ ছবি নিজস্ব৷

হাজার টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে৷ এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ২৫৮ কোটি ৭৮ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা৷ এই বাজেট পেশ করে মুখ্য নির্বাহী সদস্য রাধাচরণ দেববর্মা জানান শিক্ষা, কৃষি, প্রাণী বিকাশ, যোগাযোগ, পানীয় জল, সমাজ শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণ, বেকারদের স্বনির্ভর প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে৷ গত বছরের তুলনায় এবছর ১৯.৪৪ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে৷

বাজেট পেশ করে রাধাচরণ দেববর্মা জানিয়েছেন, মার্কেট লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য খাত থেকে রাজস্ব আদায় হবে ২৪৬ কোটি টাকা৷ পরিকল্পনা খাতে ১৫১৭৯৮৯ টাকা৷ শেয়ার অফ টেক্স (নন প্ল্যান) ৮২২২ টাকা, ট্রান্সফার ফান্ডে ২৪৯৯২৭৫ টাকা এবং চতুর্দশ অর্থ কমিশন এবং নীতি আয়োগ থেকে ১৭৫৯৫ টাকা পাওয়া যাবে৷ তিনি আরও জানান, এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার এমজি রেগা প্রকল্পের জন্য ২৩০০৩০ টাকা, সর্বশিক্ষা অভিযান প্রকল্পের জন্য ১৯৫৮৩০ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৯১১৩৫ টাকা এডিসি প্রশাসন পাবে৷

এবারের বাজেটে শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়ন, আসবাব পত্র ক্রয় করার জন্য অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে৷ উপজাতি ছাত্রছাত্রী আইটিআই সহ উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে৷ সেই সব ছেলেমেয়েকে এককালীন ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে৷ জেএনইউর মত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে তাদেরকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন রাধাচরণ দেববর্মা৷ উচ্চ শিক্ষিত বেকারদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করার মত উপযুক্ত করে তোলার জন্য খুমুলুঙয়ে একটি কোচিং সেন্টার খোলা হবে৷ তিনি আরও বলেন, ৩৪৩ টি গ্রামে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছেনি৷ সেসব গ্রামে আগামী অর্থ বছরে প্রত্যেক গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে৷ ১৮২ টি পাড়ায় এখন পানীয় জলের সুযোগ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি৷ সেসব গ্রামে পানীয় জলের সুযোগ পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে৷ বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী দিনেও সিকলা হাম প্রকল্প চালু থাকবে৷ চলতি বছরে এ প্রকল্পের আওতায় ১০২০ জনকে ব্যাঙ্ক লোন পাইয়ে দেয়া হয়েছে৷ অর্ধ শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের উপর প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা করা হবে৷ ১৩ হাজার গরীব উপজাতি পরিবারকে রাবার চাষের আওতায় নিয়ে আসা হবে৷ শূন্য থেকে ৬ বছর পর্যন্ত শিশু অনুষ্টিতে ভুগে৷ সেই সব শিশু এবং মাকে হাসপাতালে রেখে একমাস ব্যাপী পুষ্টিকর খাবার দেয়া হবে৷ হাসপাতালে থাকার সময় মা প্রতিদিন ১০০ টাকা করে পাবে বলে তিনি জানান৷ রাধাচরণ দেববর্মা আরও জানান খুমুলুঙস্থিত খেরেংবার হাসপাতালকে উন্নত করা হয়েছে৷ চল্লিশ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে৷ এডিসিতে টিলা জমির পরিমান বেশী৷ টিলা জমিকে চাষের আওতার আনার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি৷ তিনি আরও বলেন সীমিত ক্ষমতার মধ্যে থেকে এডিসি জনগণের উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে৷ উপজাতি উন্নয়নের সাব প্ল্যানের অর্থ বরাদ্দ কেন্দ্রীয় সরকার এবছর কমিয়ে দিয়েছে৷ এই অর্থ কমিয়ে দেয়ার ফলে এডিসি এলাকার উন্নয়ন এগিয়ে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন৷
এদিকে, এদিন অধিবেশনে শারীরিক ও বার্ধক্য জনিত কারণে যারা মারা গেছেন এমন সব বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ জম্মু কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা পঁুতে রাখা মাইন বিস্ফোরণ ও আত্মঘাতী হামলায় রাজ্যের বীর সন্তান শম্ভু সাতমুড়া ও চিত্তরঞ্জন দেববর্মা নিহত হন এবং গত কুড়ি নভেম্বর ২০১৬ উত্তরপ্রদেশের কানপুরের কাছে ভয়াবহ ট্রেন দূর্ঘটনায় ১৪৬ জন নিহত এবং ২০০২ জন আহত হয়েছে তাদের অকাল প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিষদ সদস্য, সদস্যাগণ এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে স্মৃতি চারণ করা হয়৷ অধিবেশনে যাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় তারা হলেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা, এডিসির প্রাক্তন সদস্য চন্ডী ত্রিপুরা, এডিসির প্রাক্তন সদস্য নগদী রিয়াং, বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক গুনপদ জমাতিযা, বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়িকা বৈজয়ন্তী কলই, এডিসির প্রাক্তন সদস্য শ্যামলাল দেববর্মা প্রমুখ৷ পরিষদের পক্ষ থেকে শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়৷ আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়৷ সভায় শোক প্রস্তাব পাঠ করেন পরিষদের চেয়ারম্যান ডঃ রণজিৎ দেববর্মা৷

অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকার এসটি, এসসি সাব প্ল্যানে অর্থ বরাদ্দ না করার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্য নির্বাহী সদস্য রাধাচরণ দেববর্মা৷ এদিন এডিসির অধিবেশনে মুখ্য নির্বাহী সদস্য রাধাচরণ দেববর্মা সদস্য রমেন্দ্র দেববর্মার জনস্বার্থ বিষয়ে আনিত প্রস্তাবের আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷ বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন৷ তিনি এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানান৷ এদিকে সভায় এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে বক্তব্য রাখেন তথ্য সংসৃকতি ও পর্যটন দপ্তরের নির্বাহী সদস্য পরীক্ষিত মুড়াসিং, এমডিসিদ্বয় ললিত দেবনাথ ও বিয়াক থাঙ কিমা৷