নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম, ১১ নভেম্বর৷৷ সাম্রাজ্য বিস্তারে রাজ্যে একতা ভাঙ্গার নতুন কৌশল নিয়েছে বিজেপি৷ তাতে পুরানো কায়দা ভেস্তে যাওয়ায় নতুন ফন্দি আঁটতে শুরু হয়েছে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ সরাসরি বিজেপির সাথে আইপিএফটির সমঝোতার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য না করলেও রাজ্যভাগের চক্রান্তকারীদের নেডা’র বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিকে সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ শুক্রবার বিশ্রামগঞ্জে সারা ভারত কৃষক সভার ২০ তম ত্রিপুরা রাজ্য সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এভাবেই রাজ্যের একতা সংহতি বজায় রাখার জন্য সকলকে সতর্ক করেছেন তিনি৷ পাশাপাশি বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করতেও খামতি রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর সাফ কথা, আচ্ছে দিনের সরকারের আমলে কৃষক আত্মহত্যা বেড়ে চলেছে৷
রাজ্যভাগের চক্রান্তকারীরা ক্রমাগতই তাদের দাবির ভিত্তিতে আন্দোলন করে চলেছে৷ এর জন্য মঞ্চ শক্তিশালী হোক তাও চাইছেন তারা৷ যার কারণে বিজেপির উদ্যোগে পূর্বোত্তরে গঠিত সংগঠন নর্থ ইস্ট ডেমোক্র্যাটিক এলায়েন্স (নেডা)’র বৈঠকেও তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল৷ ধারণা করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী এদিন এই বিষয়টিকে নিয়েই রাজ্যের একতা সংহতিতে আঘাত আনা হচ্ছে বলে তুলে ধরেছেন৷ অবশ্য আরএসএস, বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ যেভাবে রাজ্যে সংগঠন বিস্তার করে চলেছেন তাতে সাম্প্রদায়িকতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলেও চিন্তিত মুখ্যমন্ত্রী৷ বিজেপি যে রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে সে বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ এদিন তিনি প্রত্যয়ের সাথে বলেন, রাজ্যের একতা ভাঙ্গার ক্রমাগত চেষ্টা চলছে৷ উপজাতি বাঙালিদের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরি করারও চেষ্টা হচ্ছে৷ গ্রাম পাহাড়ে পরিবেশ অস্থির হোক তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ কারণ, পুরানো কায়দা ভেস্তে যাওয়ায় এখন এভাবেই নিত্যনতুন ফন্দি আঁটছে বিজেপি, মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি মনে করেন, রাজ্যের একতা ও সংহতি ভাঙ্গা সম্ভব হলেই বিজেপি সাম্রাজ্য বিস্তার করতে পারবে৷ তাঁর দাবি, বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যে একতা ও সংহতি যাতে বজায় থাকে সেদিকে তীক্ষ্ন নজর রেখেছে৷ রাজ্যবাসীকেও তিনি এবিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আপনাদেরও চোখ কান খোলা রাখতে হবে৷ তবেই, রাজ্যে যে একতা ও সংহতির পরিবেশ রয়েছে তা বজায় থাকবে৷
এদিন তিনি, বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষের সুরে বলেন, আচ্ছে দিনের ফেরিওয়ালারা তাঁদের প্রতিশ্রুতি পূরণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ৷ এখন কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত৷ তিনি দাবি করেন, দেশের ৯০ থেকে ৯২ শতাংশ মানুষ ভাল অবস্থাতে নেই৷ কৃষকদের পাশাপাশি শ্রমিক, শ্রমজীবী মানুষ, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারী সকলেরই একই করুণ দশা৷ তাঁর মতে, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার গরিবের কথা বলে ধনীদের দরাজ হস্তে সহায়তা করে চলেছে৷ এই পরিস্থিতি থেকে উত্থানের জন্য সকলকে আন্দোলন আরো তেজি করার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
সাম্রাজ্য বিস্তারে রাজ্যের একতা ভাঙ্গার নতুন কৌশল নিয়েছে বিজেপি ঃ মুখ্যমন্ত্রী
Releated Posts
এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি প্রদেশ কংগ্রেসের, নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি
আগরতলা, ২৬ জুন: বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল…
কোর্ট ম্যারেজের পর দাম্পত্য কলহ, তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ জুন: রাজধানীর বাধারঘাট এলাকার এক তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত তরুণীর…
শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই
নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…
অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ
নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…


















