News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • হস্ততাঁত ও হস্তকারু শিল্পে নতুনত্বের ছোঁয়া আনতে পুর্বাশাকে পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর
Image

হস্ততাঁত ও হস্তকারু শিল্পে নতুনত্বের ছোঁয়া আনতে পুর্বাশাকে পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর

CM Purbhasaনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ জানুয়ারি৷ হস্ততাঁত ও হস্তকারু শিল্পে নতুনত্বের ছোঁয়া আনতে পুর্বাশাকে পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ শুধু তাই নয় মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন দেশ বিদেশের গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে হবে নতুন আঙ্গিকে নতুন উদ্ভাবনের ছোঁয়া আনতে হবে৷ মান্ধাতা আমলের ধাঁচের সামগ্রী এখন আগ্রহ বাড়াচ্ছেনা৷ তাই পুর্বাশাকে ক্রেতাদের পছন্দের উপর জোর দিতে হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার জানিয়েছেন৷
উত্তর- পূর্বাঞ্চলের মধ্যে প্রথম আরবান হাট-র উদ্বোধন হল আজ আগরতলায়৷ একই সঙ্গে আজ দ্বারোদঘাটন হয়েছে পূর্বাশার নবনির্মিত ভবনেরও৷ ফলক উন্মোচন এবং ফিতা কেটে দুটিরই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ এই আরবান হাটে রাজ্যের হস্ততাঁত ও হস্তকারু শিল্পীদের উৎপাদিত সামগ্রী স্থান পাবে এবং সারা বছরই এতে কেনাকাটা করা যাবে৷ এর ফলে এর সঙ্গে যুক্ত প্রায় দেড় লক্ষ পরিবার উপকৃত হবেন বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবর্গ আশা প্রকাশ করেছেন৷
উদ্বোখকের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, গোটা এলাকাটিকে হস্ততাঁত ও হস্তকারু শিল্পের রাজ্যের অন্যতম প্রধান বিপণী কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই নতুন প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল৷ এর বড় অংশের কাজই শেষ হয়েছে৷ আরও কিছু কাজ হাতে নবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ পূর্ত দপ্তরকে এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে৷ সহসাই তার কাজ শুরু হবে এবং আগামী দেড়-দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ কাজটি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ভারতের যে কোন প্রান্তের মানুষ এলে ত্রিপুরার হস্ততাঁত, হস্তাকারু শিল্প সম্পর্কে একটা ধারনা নিয়ে যেতে পারবেন৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার শিল্পের বিকাশের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ তবে এটাও ঘটনা বড় আয়তনের শিল্প এমনকী মাঝারী আকারের শিল্পও এখানে গড়ে তুলতে সময় নেবে৷ ইতোমধ্যেই অবশ্য মাঝারী আকারের বেশ কিছু শিল্প এখানে গড়ে ওঠেছে৷ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার চেষ্টা করছে৷ কিন্তু এখনও হস্তকারু শিল্পকেই এ রাজ্যে শিল্পের প্রধান ভিত্তি হিসাবে চিহ্ণিত করা হচ্ছে৷ এক সময় এই শিল্প এখানে প্রায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল৷ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই শিল্প পুনরুজ্জীবিত হয়েছে৷ তবে একে আরও বিকশিত করতে হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্পীর বাজারের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে গুণগতমান বজায় রেখে সামগ্রী উৎপাদন করলে শুধু ভারত নয় ভারতের বাইকের বাজারও তারা ধরতে পারবেন৷ বিশেষ করে বড় আকারের রেল চলে অওাসার পর তাদের কাছে সুযোগ আরও বেশী প্রসারিত হবে৷ পন্য সমুহের গুণগতমান বজায় রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নতমানের সূতা ব্যবহার করার পাশাপাশি ডিজাইন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করতে হবে৷ তিনি বলেন, সরকারীভাবে পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য যেমন চেষ্টা করা হচ্ছে তেমনি আর্থিক সহায়তা পাবার জন্য শিল্পীরা ইচ্ছে করলে স্বাবলম্বন কর্মসূচীর সুবিধাও গ্রহণ করতে পারেন৷ তারা যাতে সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারেন সেজন্য শিল্পীরা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে৷ অনেক সকময় ব্যাঙ্কসমূহের কাছ থেকে সেভাবে সহায়তা পাওয়ানা গেলেও তাদের উপর চার বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ আগামীদিনে এই শিল্পে ত্রিপুরা ভারতের মধ্যে একটি বিশেষ স্থান করে নিতে পারবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন৷
সভাপতির ভাষণে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তপন চক্রবর্তী বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আর কোথাও এধরনের কমপেক্স তৈরী হয়নি৷ প্রায় বার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি গড়ে ওঠছে৷ এর কাজ কিছুটা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে৷ অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই তা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ তিনি বলেন, পূর্বাশা এবং আরবান হাট একে অপরের সঙ্গে যুক্ত৷ উৎকৃষ্ট মানের যে সব জিনিষ এ রাজ্যের শিল্পীরা তৈরী করবেন সেগুলি পূর্বাশার মধ্যে শুধু মধ্যে শুধু দেখা নয় কেনাও যাবে৷ আমাদের এখানকার অনেক কাজ আছে যেগুলি বিদেশেও সমাদৃত হচ্ছে৷ তবে পণ্য সামগ্রী নির্মাণের ক্ষেত্রে পঁচিশ ত্রিশ বছরের আগেরকার ধ্যানধারণা পাল্টে ফেলতে হবে৷ নতুন দৃষ্টিভঙ্গীর প্রয়োগ ঘটাতে হবে৷
মুখ্য অতিথির ভাষণে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র ড প্রফুল্লজিৎ সিনহা বলেন, হস্ততাঁত এবং হস্তাকারু সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের কাছে আজ আনন্দের দিন৷ তাদের পণ্য বাজারজাত করার যে অসুবিধা ছিল তা এখন দূর হবে৷ যতটুকু সম্ভব এই সুযোগ গ্রহণ করে এই শিল্পের শ্রীবৃদ্ধি ঘটানোর জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের প্রধান সচিব এম নাগারাজু৷
স্বাগত ভাষণে হস্ততাঁত, হস্তকারু এবং রেশম শিল্প দপ্তরের অধিকর্তা টি কে জানান, পূর্বাশার নতুন ভবন নির্মাণে ৮ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা এবং আরবান হাট নির্মাণে ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে৷ আরবান হাটটিতে সব মিলিয়ে ৪০ টি ষ্টল হবে৷ ২১টি ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে৷ ১৯ টি কাজ শীঘ্রই শুরু হবে৷

Releated Posts

রথকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি প্রদেশ কংগ্রেসের

আগরতলা, ১৬ জুলাই: তিন বছর আগে কুমারঘাটে রথযাত্রার সময় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১০ জন ভক্তের মৃত্যুর ঘটনায়…

ByByTaniya Chakraborty Jul 16, 2026

রামমন্দির ও শ্রীরাম নিয়ে কথা বলার অধিকার শুধু হিন্দুদেরই: আচার্য প্রমোদ কৃষ্ণম

মোরাদাবাদ, ১১ জুলাই (আইএএনএস): শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির এবং ভগবান শ্রীরামকে নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার শুধু হিন্দুদেরই রয়েছে বলে…

ByByNews Desk Jul 11, 2026

বন্য দাতাল হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ঠ কৃষ্ণপুর, ফসল-ঘরবাড়ি হারিয়ে সর্বস্বান্ত বহু পরিবার

তেলিয়ামুড়া, ৬ জুলাই: তেলিয়ামুড়া মহকুমার ২৯-কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কৃষ্ণপুর ও সংলগ্ন এলাকায় বন্য দাতাল হাতির তাণ্ডবে চরম আতঙ্কে…

ByByTaniya Chakraborty Jul 6, 2026

রাজনীতিতে সাফল্য এলেই হিংসা তৈরি হয়, প্রতিকূলতার সামনে হার মানলে চলবে না: মোহন ভাগবত

নাগপুর, ২ জুলাই (আইএএনএস): রাজনীতিতে কারও সাফল্য অনেক সময়ই অন্যদের মধ্যে হিংসার জন্ম দেয় বলে মন্তব্য করলেন মোহন…

ByByNews Desk Jul 2, 2026
Scroll to Top