কলকাতা, ১২ ডিসেম্বর (হি. স.): আপাতত সংকটমুক্ত রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর শরীরের সমস্ত প্যারামিটার আপাতত স্বাভাবিক। শনিবার বিকেলের বুলেটিনে এমনই জানিয়েছেন উডল্যান্ডস হসপিটালের বুদ্ধবাবুর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা।
এদিনের বিকেলের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, এখন মোটামুটি সুস্থ রয়েছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৬। স্বাভাবিক রয়েছে শরীরের সমস্ত প্যারামিটার। আপাতত রাইলস টিউবের মাধ্যমে খাওয়ানো হচ্ছে তাঁকে। কিন্তু বিকেলে নিজেই চা খেতে চেয়েছিলেন। তখন তাকে ব্ল্যাক-টি দেওয়া হয়েছিল। মৌখিক মাধ্যমে সেই চা খেয়েছেন বুদ্ধবাবু। রাতে খেতে চেয়েছেন সুপ।
চিকিৎসকদের তরফে আজকে জানানো হয়েছে, চেস্ট ফিজিওথেরাপি শুরু হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। মাঝে মাঝে তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকে বার করে দেখা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভেন্টিলেশন ছাড়াও সুস্থ থাকছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হতে পারে। এর আগেও যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তখন সামান্য সুস্থ বোধ করলে তিনি বাড়ি যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠতেন। এবারেও যদি তিনি বাড়ি যেতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে তাঁর ইচ্ছে কেও গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখবেন চিকিৎসকরা। কারণ বুদ্ধবাবুর বাড়িতে বিভিন্ন মেডিকেল সেটআপ রয়েছে। সেখানে নেবুলাইজার, বাইপাপ সাপোর্ট নেওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা করা রয়েছে। এই সে ক্ষেত্রে তিনি যদি বাড়িতে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তাহলে তাঁকে বাড়ি পাঠানোর বিষয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবনা চিন্তা করবেন চিকিৎসকরা।
উডল্যান্ডস হাসপাতালের সিইও রূপালী বসু শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “সুস্থতার সব মাপকাঠিতে ওঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি দেখে আমরা সন্তুষ্ট। আপাতত নল দিয়ে খাবার খাচ্ছেন। ক্যাথেটার খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছি। আর সঙ্কটজনক বলব না। আশাব্যঞ্জকভাবে উনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। বুদ্ধবাবু এখন সঙ্কটমুক্ত বলা যায়। আমরা সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে ওঁকে ছাড়ার পরিকল্পনাও করছি।”
বুদ্ধবাবুর চিকিৎসক দলের সদস্য কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “পাঁচদিনের অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সের মধ্যে তিনদিন হয়েছে। ক্যাথেটার আজ খোলা হবে। এরপর রাইলস টিউব খোলা হলে মুখ দিয়ে খেতে পারবেন। রক্তচাপ মাপার জন্য ধমনীর মধ্যে একটা লাইন আছে সেটা খোলা হবে। সব ঠিক থাকলে দু’ তিনদিনের মধ্যে ছাড়া হতে পারে।”



















