নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ ডিসেম্বর৷৷ হাতির দাঁতের আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম এক ব্যক্তিকে নিশ্চিত মৃত্যর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য জি বি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ আজ সন্ধ্যায় মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে শল্য চিকিৎসক ডা. দামোদর চ্যাটার্জী ও ডা. দীপ্তেন্দ চৌধুরী এবং অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. ভাস্কর মজমদারকে জটিল অপারেশনের মাধ্যমে নিশ্চিত মৃত্যর মুখ থেকে বাঁচিয়ে আনার জন্য অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ পাশাপাশি এই জটিল অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. সৌরভ সাহা সহ আরও ৭ জন চিকিৎসক, নার্স এবং টেকনেশিয়ানদেরও অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ রাজ্যের চিকিৎসকদের এই সাফল্যে সন্তোষ ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জটিল অপারেশনের মাধ্যমে আহত ব্যক্তিকে বাঁচিয়ে তোলার সাফল্যে রাজ্যের চিকিৎসকদের প্রতি জনগণের বিশ্বাস আরও বাড়বে৷ মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন রাজ্যের চিকিৎসকগণ আগামীদিনেও এভাবেই সাফল্যের সাথে কাজ করে যাবেন৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের চিকিৎসক, নার্স, সাফাইকর্মী সহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীর সার্বিক প্রচেষ্টায় রাজ্যে করোনা অতিমারিকে সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে৷ ফলে রাজ্যে এখন করোনা সংক্রমণের পজিটিভিটির হার এক শতাংশের কাছাকাছি৷ যা রাজ্যের জন্য একটি বড় সাফল্য৷ এছারাও রাজ্যে বর্তমানে কোভিড আক্রান্ত রোগীর সুুস্থতার হার ৯৮ শতাংশ৷ রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে জিবি হাসপাতালের প্রতিটি স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতার ফলেই তা সম্ভব হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজ্য ছোট হলেও কোভিড-১৯ কে দারুণভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে৷ রাজ্যের যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো রয়েছে তা দিয়েই চিকিৎসক সহ সকল স্বাস্থ্যকর্মী যেভাবে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করছেন তার জন্য সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের জিবি হাসপাতাল, আই জি এম হাসপাতাল এবং বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে যেকোন রোগী আসলে তাকে সুুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এখন থেকে হাসপাতালগুলিতে একটি টিম রাখা হবে৷ তাতে রোগীদের মধ্যে হাসপাতালগুলি সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরী হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বাস আরও বাড়বে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের চিকিৎসক, নার্স সহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীর প্রচেষ্টার ফলেই রাজ্যে বর্তমানে শিশু ও গর্ভবর্তী মহিলার মৃত্যর হার অনেকটা কমেছে৷ রাজ্যের চিকিৎসকগণ কোভিড মোকাবিলা সহ যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি করছেন সেগুলি প্রচারের আলোয় নিয়ে আসার জন্য সংবাদ মাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ এছাড়াও রাজ্যের নিউরোসার্জন এখন অনেকগুলি জটিল অপারেশন করেছেন যেগুলি বর্হিরাজ্যে গিয়ে করলে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় হত৷ কিন্তু রাজ্যে নিউরোসার্জন থাকায় সেগুলি খুব কম খরচেই করা সম্ভব হয়েছে৷ চিকিৎসকদের এই সাফল্যগুলিকে রাজ্যের জনগণের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংবাদ মাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ চিকিৎসকদের অভিনন্দন ’াপন করার সময় মুখ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা, ত্রিপুরা হেলথ সার্ভিসের ডিরেক্টর ডা. শুভাশিষ দেববর্মা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা ডা. রাধা দেববর্মা৷



















