নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ এপ্রিল৷৷ দিল্লির হজরত নিজামউদ্দিন মরকজে তবলিগ-ই জামাত-অংশগ্রহণকারী ত্রিপুরার ১১ জন নাগরিকের মধ্যে ২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন৷ তাঁরা ত্রিপুরায় ফিরেননি৷ তাঁরা বর্তমানে রাজস্থানের বিকানিরে রয়েছেন এবং সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে৷ রাজস্থান সরকার ত্রিপুরা সরকার-কে ওই সংবাদ দিয়েছে৷ আজ সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরার স্বাস্থ্য সচিব ডা. দেবাশীষ বসু এ-কথা জানিয়েছেন৷ সাথে তিনি যোগ করেন, দিল্লির হজরত নিজামউদ্দিন মরকজে তবলিগ-ই জামাত-ফেরত ত্রিপুরার নাগরিক ৩৬ জনকে এখন পর্যন্ত চিহ্ণিত করা হয়েছে৷ তাঁদের পরিবার সহ সকলের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে৷
তিনি বলেন, ত্রিপুরার বক্সনগরের ১১ জন বাসিন্দা দিল্লির হজরত নিজামউদ্দিন মরকজে তবলিগ-ই জামাত অংশগ্রহণ করেছিলেন৷ তাঁরা সেখান থেকে বিকানির ঘুরতে যান এবং সেখানেই ২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে চিহ্ণিত হয়েছেন৷ এ-বিষয়ে স্টেট সার্ভেলেন্স অফিসার ডাঃ দ্বীপ দেববর্মা বলেন, গত ৫ মার্চ ওই ১১ জন দিল্লি গিয়েছিলেন৷ ৮ মার্চ পর্যন্ত দিল্লির হজরত নিজামউদ্দিন মরকজে তবলিগ-ই জামাত-এ ছিলেন৷ ৮ মার্চ রাতে তাঁরা দিল্লি থেকে বিকানিরের ট্রেন ধরেন৷ ডাঃ দেববর্মা-র কথায়, অসমের করিমগঞ্জের করোনা আক্রান্ত প্রথম রোগীর সংস্পর্শে ছিলেন তাঁরা৷ বিকানিরে মসজিদের পাশে ৩টি বাড়িতে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিলেন৷ রাজস্থান সরকার তাদের চিহ্ণিত করেছে৷ তিনি বলেন, ৪/৫ দিন আগেই তাদের চিহ্ণিত করেছে রাজস্থান সরকার৷ এখন আমাদের কাছে খবর এসেছে৷ তাদের-কে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে রাজস্থান সরকার৷ তবে, ত্রিপুরার ১১ জন নাগরিকের মধ্যে দুইজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এমন কোন নথি এখনো রাজস্থান সরকার ত্রিপুরা সরকারের কাছে পাঠায়নি, বলেন তিনি৷
ডাঃ দ্বীপ দেববর্মার কথায়, দিল্লির হজরত নিজামউদ্দিন মরকজে তবলিগ-ই জামাত-ফেরত এখন পর্যন্ত ৩৬ জনকে চিহ্ণিত করা হয়েছে৷ তাদের পরিবার সহ সকলকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়েছে৷ এছাড়া, মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ৪ জনের খোঁজ মিলেছে৷ তাঁরা ১৫ মার্চ ত্রিপুরায় এসেছিলেন৷ আগরতলায় একটি বাড়িতে তারা অবস্থান করছিলেন৷ তাদের মধ্যে কোন লক্ষণ পাওয়া যায়নি৷ কিন্তু, আগামীকাল তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হবে৷ এদিকে, ত্রিপুরায় এখন পর্যন্ত ৯৮২৪ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল৷ তাঁদের মধ্যে ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণ সময়সীমা অতিক্রম করেছেন ৩২০৪জন৷ বর্তমানে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রয়েছে ১৩৪ জন এবং বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৪৮৬ জন৷ এছাড়া, নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৬১ জনের এবং তাঁদের রিপোর্ট রেগেটিভে এসেছে৷


















