নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ মার্চ৷৷ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে মাত্র ১৭ মাসে ১৮ কোটি টাকা রোগীর চিকিৎসা বাবদ মেটানো হয়েছে৷ তার মধ্যে সবচেয়ে জি বি হাসপাতালকে ৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এবং ক্যান্সার হাসপাতাল পেয়েছে দেড় কোটি টাকা৷ এদিকে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার রোগী ওই প্রকল্পের সুযোগ নিয়েছেন৷ সোমবার এমনটাই উঠে এসেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্যে৷
আর্থ সামাজিক জাতি শুমারির(এসইসিসি ২০১১) অন্তর্গত পরিবারগুলি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে৷ তাতে কেন্দ্রীয় সরকার যেকোন রোগের চিকিৎসায় খরচ বহন করছে৷ অবশ্যই রাজ্য সরকারেরও তাতে অংশীদারিত্ব রয়েছে৷ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পরা পরিবারগুলি দারুণভাবে উপকৃত হচ্ছেন৷
ত্রিপুরায় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ৮৮টি হাসপাতাল রয়েছে৷ তার মধ্যে আইএলএস এবং ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রোগীরা ওই সুযোগ নিতে পারছেন৷ স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১ সেপ্ঢেম্বর ২০১৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত বিগত ১৭ মাসে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা খরচ বাবদ ১৮ কোটি টাকার বিল মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ ওই টাকা ত্রিপুরার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসায় খরচ করা হয়েছে৷ এছাড়া, বহিঃরাজ্যে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ৫০ লক্ষ টাকার বিল মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, ত্রিপুরায় জি বি হাসপাতালে সবর্োচ্চ ৩ কোটি টাকার বিল মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ এছাড়া ক্যান্সার হাসপাতালে দেড় লক্ষ টাকা এবং বাকি টাকা অন্যান্য হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার জন্য ওই প্রকল্পের অধীনে বিল মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে৷
ওই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চিকিৎসার জন্য রোগীর কোন টাকা খরচ করতে হচ্ছে না৷ রেশন কার্ডের নম্বর দিলেও হাসপাতাল চিকিৎসার বিল জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে৷ ওই ১৭ মাসে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার রোগী ওই প্রকল্পের সুযোগ নিয়েছেন৷ তবে, বহিঃরাজ্যে চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রকল্পের অধীনে না থাকা হাসপাতালে চিকিৎসার কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর পরিবারকেই ওই খরচ বহন করতে হয়েছে৷
স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুসারে, সারা ভারতে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ১৮ হাসপাতাল রয়েছে৷ ওই হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসায় রোগীকে কোন খরচ বহন করতে হবে না৷ ইতিমধ্যে ত্রিপুরায় এসইসিসি ২০১১-তে অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলির মধ্যে ৭১ শতাংশ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যুক্ত হয়ে গেছে৷ তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ পরিবারে প্রত্যেক সদস্য আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পেয়ে গেছেন৷ তবে, এসইসিসি ২০১১ অনুযায়ী মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২৫.৫৬ লক্ষ হলেও৷ বাস্তবে ১৪ লক্ষ মানুষের হদিস পেয়েছে স্বাস্থ্য দফতর৷ তাঁদের সকলকে ওই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে৷


















