আগরতলা, ১১ ডিসেম্বর (হি. স.) : ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের হস্তক্ষেপে অনির্দিষ্টকালের বনধ প্রত্যাহার করল জয়েন্ট মুভমেন্ট এগেইনস্ট সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট বিল (জেএমএসিএবি)। আজ সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীর সাথে জেএমএসিএবি-র সদস্যদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এবং সংযুক্ত কমিটির কনভেনর এন্থনি দেববর্মা অনির্দিষ্টকালের ত্রিপুরা বনধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় তিনদিন ধরে সংযুক্ত কমিটি ধর্মঘট করছে। তাতে, ত্রিপুরা জনজীবনে প্রভাব পড়েছে এবং নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ত্রিপুরার ক্ষতি হোক এমন কোন আন্দোলন করা উচিত নয়। তাই, আজ তাঁদেরকে আলোচনার জন্য ডেকেছি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জেএমএসিএবি-র সদস্যদের বনধ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছি। তার বদলে তাদের আওয়াজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তিনি বলেন, জেএমএসিএবি-র সদস্যরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে দেখা করে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে তাঁদের বক্তব্য রাখতে চাইছেন। তাই, খুব শীগ্রই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে তাঁদের দেখা করার বন্দোবস্ত করব বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, গণতান্ত্রিকভাবে আলোচনায় ইতিবাচক ফল মিলেছে। তবে, বনধকে ঘিরে ত্রিপুরায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। ভবিষ্যতে এধরণের ঘটনা এড়ানো যায় তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, বলেন তিনি।
এদিন সংযুক্ত কমিটির কনভেনর এন্থনি দেববর্মা, বিজয় কুমার রাঙ্খল সহ অন্যান্য সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে এন্থনি দেববর্মা বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে বনধ ডেকেছিলাম। কিন্তু, এখন মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন ওই বিল নিয়ে আমাদের বক্তব্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। তিনি আমাদের সাথে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বৈঠকের বন্দোবস্ত করবেন। তাই, অনির্দিষ্টকালের ত্রিপুরা বনধ আপাতত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, টানা তিনদিন ধরে ত্রিপুরায় বনধ পালন করা হচ্ছে। আজ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তার সমাপ্তি হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, শীগ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিকে ফিরবে। অবশ্য, আগামীকাল যুব কংগ্রেস ১২ ঘন্টার ত্রিপুরা বনধ ডেকেছে। ফলে, আগামীকালও ত্রিপুরায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। আজ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সমস্ত জেলা শাসকদের আট জেলায় শান্তি বৈঠকের বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, মোবাইল ইন্টারনেট এবং এসএমএস পরিষেবা পুনরায় চালু করার বিষয়ে ভেবে দেখা হবে।



















