
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুরাইবাড়ি, ৮ সেপ্ঢেম্বর ৷৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন রাজ্যকে এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার ডাক দিয়েছেন, ঠিক সেই সময়ও নেশা কারবারী ও জুয়ারিরা তাদের ব্যবসা চাঙ্গা করতে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে চলেছে৷ ফলে আরক্ষা প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার সম্মুঘীন হচ্ছে৷ তীর নামক জুয়া খেলা অবাদে চললেও তাদেরকে নথিপত্র সহ আটক করা অনেক ক্ষেত্রেই কষ্টকর৷
অনলাইন পদ্ধতিতে এই খেলার ফলাফল জানা যায় একটি চক্রের মাধ্যমে৷ এই চক্রকে জালে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ পুলিশের জালে আটক কুখ্যাত এক তীরের এজেন্ট সহ তীর খেলায় যুক্ত আরও এক যুবক৷ তাদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সহ বেশকিছু তীর খেলার কাগজপত্র উদ্ধার করেছে কদমতলা থানার পুলিশ৷
ধৃতদের নাম অভিজিৎ কর্মকার ও পিকি নাথ চৌধুরী৷ তবে বর্তমান যুগে আধুনিকতার ফলে তীর খেলার এজেন্ট সহ তীর খেলায় যুক্ত যুবকদের পাকড়াও করাটা পুলিশের কাছে কিছুটা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ কেননা সবকিছু হয়ে যায় অনলাইন মোবাইলের মাধ্যমে৷ ধরাছোঁয়ার বাইরে তীরের এজেন্ট ও খেলায় নিযুক্ত মানুষরা৷ তবুও অবশেষে কদমতলা থানার পুলিশের হাতে তীরের এজেন্ট সহ তীর খেলায় নিযুক্ত এক যুবক আটক হওয়াতে জনমনে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস এসেছে৷ দীর্ঘদিন থেকে উত্তর জেলার কদমতলা থানা এলাকায় তীর জুয়ার রমরমা চলে আসছে৷ তীর জুয়ার ফলে নব প্রজন্ম থেকে শুরু করে সকল স্তরের মানুষ ধবংসের মুখে চলে যাচ্ছে৷
রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ণের মিথ্যে আশায় তীর খেলাতে যুক্ত হয়ে সর্বসান্ত হয়েছে অনেক মানুষ৷ মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু তীরের এজেন্টরা আধুনিক যুগে মোবাইলের মাধ্যমে শিলংয়ে তীর খেলার রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে গোটা কদমতলা থানা এলাকায় তীর খেলা জাঁকিয়ে বসেছে৷ স্থানীয় মানুষ প্রতিদিন বেলা বাড়ার সাথে সাথে নিজের মর্জি মাফিক ১ থেকে ৯৯ পর্যন্ত নম্বর এর উপর টাকা লাগান৷ বিকেলবেলা শিলংয়ে এই তীর খেলার যে রেজাল্ট আসবে অর্থাৎ যে নাম্বারটি উঠবে সেই জয়ী হবে, আর শর্তসাপেক্ষে মুনাফাটা ওই ব্যক্তি পাবে৷ কিন্তু সেই নেশার লোভে কদমতলা থানা এলাকার সাধারণ মানুষ আজ সর্বসান্ত৷ অবশেষে আজ কদমতলা থানার এসআই প্রাজিত মালাকার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে লালছড়া বাজার থেকে তীরের নাম্বার কাটাকালীন অবস্থায় তীরের এজেন্ট অভিজিৎ কর্মকার (৩৮) ও তীর খেলায় যুক্ত পিকি নাথ চৌধুরী (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেন৷ জানা গেছে, অভিজিৎ কর্মকার ধর্মনগর থানাধীন দক্ষিণ নয়াপাড়ার বাসিন্দা৷
সে দীর্ঘদিন যাবৎ লালছড়া বাজারে তীরের অবৈধ ব্যবসা চালাতো৷ অপরদিকে পিকি নাথ চৌধুরী স্থানীয় ইচাইলালছড়ার বাসিন্দা৷ কদমতলা থানার এস আই প্রাজিত মালাকারের এই তীর বিরোধী অভিযানে কদমতলা থানা এলাকায় সাধারণ জনগণের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে৷ পাশাপাশি এসআই প্রাজিত মালাকার জানান, উনারা প্রতিনিয়ত তীর জুয়ার অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান অব্যাহত রাখবেন৷ পাশাপাশি এই চক্রের মূল পান্ডাদেরকেও পাকড়াও করার প্রয়াস জারি রাখবেন৷ জুয়ার কবলে পড়ে ধবংস হচ্ছে বহু পরিবার৷ বহু যুবকের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ধাবিত হচ্ছে৷ মহিলারাও এই বদ নেশায় আসক্ত হচ্ছেন৷ এই বিপজ্জনক প্রবণতা বন্ধ করতে প্রশাসনকে সুকৌশলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে৷ এটাই হবে সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার অন্যতম উপায়৷ আর তাতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ণও বাস্তবায়িত হবে৷



















