নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ জুন৷৷ প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির মিশেলে দিল্লি সফর অনেকটাই সফল হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মনের৷ ত্রিপুরা মেডিক্যাল

কলেজকে এনইআইজিআরআইএইচএম-র মতো উন্নিত করা, আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পিজি আসন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ভবন নির্মান এবং জিবি হাসপাতালের এমসিএস বিভাগটি আরো সম্প্রসারণ সহ গুচ্ছ প্রস্তাব নিয়ে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সাথে বৈঠক করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ৷ এই আলোচনা যথেষ্ট ইতিবাচক ছিলো বলে জানিয়েছেন সুদীপ রায় বর্মণ৷
এদিন বৈঠকে ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজকে শিলংস্থিত নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওন্যাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ এন্ড মেডিক্যাল সায়েন্স (এনইআইজিআরআইএইচএম) এর ন্যায় উন্নিত করার দাবি জানায় রাজ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্রীবর্মণ৷ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তিনি বুঝিয়েছেন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে শিক্ষা অর্জনে উৎকর্ষতা বৃদ্ধির জন্য এই চাহিদা দেখা দিয়েছে৷ কেন্দ্রের সরাসরি সহযোগিতা ছাড়া ভালো ফেকাল্টি পাওয়া সম্ভব নয়৷ তাই, এ বিষয়ে বিবেচনার জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন৷ এদিকে আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পিজি কোর্সে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ৷ সাথে তিনি পিজি কোর্সে আরো তিনটি বিষয় বাড়ানোর দাবি রেখেছেন৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডাকে বলেছেন, আপাতত আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ১৩টি বিষয়ে ২৫ টি আসন বরাদ্দ আছে৷ আরো তিনটি বিষয় সহ আসন বৃদ্ধি খুবই প্রয়োজন৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, আসন বৃদ্ধি চেয়ে এনসিআইকে প্রয়োজনীয় ইন্সপেকসান ফি ইতিমধ্যেই জমা দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু, এমসিআইয়ের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিষয় উত্থাপন করে আসন বৃদ্ধির বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, এমসিআই যে ঘাটতির উল্লেখ করেছিল তা পূরণ করে নতুন ভাবে আবেদন জানানো হয়েছে৷ কিন্তু এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত এমসিআইয়ের পক্ষ থেকে কোন সাড়া মেলেনি৷
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্রীবর্মণ এদিন রিপসেটকে উন্নিত করণের অনুরোধ জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি স্বাস্থ্য ভবন নির্মানের দাবি জানিয়েছেন৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিন চারটি পৃথক দপ্তরকে এক ছাঁদের তলায় নিয়ে আসা খুবই জরুরি৷ নয়া স্বাস্থ্য ভবনে দপ্তরের চারটি ডাইরেক্টরেটকে নিয়ে আনতে চাইছে রাজ্য সরকার৷ তাতে স্বাস্থ্য দপ্তরের কাজের অনেক গতি আসবে বলে আশাবাদী রাজ্য সরকার৷ এদিকে জিবি হাসপাতালের এমসিএস বিভাগটি সম্প্রসারণেও দাবি জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্রীবর্মণ৷ এক্ষেত্রে ইতিপূর্বে বরাদ্দ ২৬ কোটির অতিরিক্ত ১৪৭৩৪ কোটি টাকা চেয়েছে রাজ্য সরকার৷
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এমসিএস বিভাগটির জন্য একটি বহূতল ভবন গড়ে তুলতে হবে৷ কারণ, জিবি হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব রয়েছে৷ এই বহুতল ভবন নির্মাণে ১৭৩কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার ডিপিআর পূর্ত দপ্তর তৈরি করেছে৷
এদিন বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণকে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে হাল ফেরাতে সব সরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন৷ ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজকে উন্নিত করার প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডোনার মন্ত্রকের সাথে আলোচনাক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন৷ আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পিজি কোর্সে আসন বৃদ্ধির বিষয়টি ইতিমধ্যে বিবেচনার জন্য এমসিআইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন৷ তবে, রিপসেট নিয়ে রাজ্যের ঝুলিতে নতুন ভাবে কিছুই উপলব্ধি হবে না বলেই মনে হচ্ছে৷ কারণ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রিপসেট নিয়ে নতুন কোনও স্কিম আপাতত নেই৷ তবে বিষয়টি ডোনার মন্ত্রকের সাথে আলোচনার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা যায় কিনা তা ভেবে দেখবেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷ এদিকে স্বাস্থ্য ভবন নির্মানে রাজি হয়েছেন শ্রীনাড্ডা৷ ডোনার মন্ত্রকের সাথে মিলে এই ভবন নির্মাণ করা হবে৷ এ বিষয়ে ত্রিপুরা সরকার ও ভারত সরকারকে অবিলম্বে একটি প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন৷ পাশাপাশি জিবি হাসপাতালে এমসিএইচ বিভাগটি সম্প্রসারণে রাজ্য সরকারের আধিকারিক স্তরের এক প্রতিনিধি দল দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের আধিকারিকদের সাথে আলোচনাক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলি চিহ্ণিত করবেন৷ এর ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে৷ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্রীনাড্ডা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণকে এবিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন৷ পাশাপাশি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সমস্ত সহযোগিতা করবে কেন্দ্রীয় সরকার, সেই প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা৷


















