কলকাতা, ২ ডিসেম্বর (হি.স.) : বিশ্ব-বাংলা ইস্যুতে বুধবারই বিধানসভায় মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই বিশ্ব-বাংলা ‘লোগো’র
মালিকানা প্রসঙ্গে পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করে গুরুতর বিতর্ক উস্কে দিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷ তিনি প্রশ্ন তোলেন ‘‘মুখ্যমন্ত্রী আইনসভায় দাঁড়িয়ে যেকথা বললেন, তার এগ্রিমেন্ট কই? ‘‘কে সত্যি কথা বলছেন ? মুখ্যমন্ত্রী নাকি তাঁর নিকটাত্মীয়| উনি যদি সত্যি কথা বলে থাকেন, তাহলে বাংলার মানুষের কাছে এগ্রিমেন্ট প্রকাশ করুন৷’’ দাবি জানালেন, ‘‘কোনও স্বাধীন নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক৷ তাহলে স্পষ্ট হয়ে যাবে, কে সত্যি বলছেন আর কে মিথ্যে৷’’ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তীব্র শ্লেষের সঙ্গে মুচকি হেসে বললেন, ‘‘অদ্ভূত গোলমেলে জবাব মুখ্যমন্ত্রীর৷ এখন বিশ্ববাংলার মালিকানা কার, তা বলতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রীই!’’
সাংবাদিকদের কাছে আদালতের কপি দেখিয়ে মুকুল রায় দাবি করেন, ‘‘জাগো বাংলা, বিশ্ব বাংলা প্রসঙ্গে আমি আলিপুর আদালতের নির্দেশ অমান্য করিনি৷ যে কথাগুলো বলছি- তা তথ্য সহকারেই বলছি৷’’ এরপরই নিজের আস্তিন থেকে একের পর এক বোমা ফাটাতে শুরু করেন তিনি৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন দশকের রাজনৈতিক ছায়া সঙ্গীর কথায়, ‘‘বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন- আমি এর স্রষ্টা৷ ২০১৩ সালে এটা রাজ্য সরকারকে দিয়ে দিয়েছি৷’’
এরপরই বোমা ফাটাতে শুরু করেন তৃণমূলের ‘প্রাক্তন’ চাণক্য মুকুল৷ সরকারের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে বললেন, ‘এগ্রিমেন্ট কই?’’ তুললেন নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোর দাবি৷ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিশ্ব বাংলা ইস্যুতে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে আষ্টেপৃষ্টে আক্রমণ শুরু করেছেন মুকুল রায়, তাতে আগামীদিনে সরকারের বিড়ম্বনা বাড়বে বই কমবে না৷ মুকুলের বক্তব্য, ‘‘উনি যদি বিশ্ব-বাংলার লোগো রাজ্য সরকারকেই দিয়ে থাকেন, তাহলে ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিশ্ব বাংলা লোগোর জন্য আবেদন করেন কি করে? হলফনামায় অভিষেক জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতিতেই তিনি এই লোগোর মালিকানা গ্রহণ করছেন৷ তাহলে কে সত্যি কথা বলছেন?’’ ১০ নভেম্বর রানি রাসমনি রোডে বিজেপি-র জনসভা থেকে এবিষয়ে প্রথম ‘বোমা’ ফাটিয়েছিলেন মুকুল৷ অভিষেকের নামোল্লেখ না করে এদিন তাঁর খোঁচা, ‘‘আমি বলার পরই কেন বিশ্ব বাংলার লোগোর মালিকানা থেকে আবেদন প্রত্যাহার করলেন মুখ্যমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়| আপাতত, মুকুল রায়ের বোমার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী কি বলেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতির কারবারিরা৷

এগ্রিমেন্ট কই! বিশ্ব বাংলা প্রসঙ্গে মমতাকে খোঁচা মুকুল রায়ের
Releated Posts
অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ
নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের
কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…
ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…
সুস্থ সমাজ গঠনে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান সুদীপ রায় বর্মনের
আগরতলা, ১৭ মে: দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুস্থ সমাজ ও শক্তিশালী দেশ গঠনে কাজে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন…


















