রাজ্যের ৪২ শতাংশ মহিলা ধূমপায়ী, গ্রামের তুলনায় শহরে শিশু মৃত্যর হার বেশী, নজর দিতে আশাদের পরামর্শ উদ্বিগ্ণ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৮ মার্চ৷৷ শহুরে সংসৃকতি দিনে দিনে উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে৷ শিশু সুরক্ষায় গ্রাম শহরকে পিছনে

জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যভিত্তিক সেরা আশা সম্মাননা অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী সহ অন্যান্যরা৷ বুধবার আগরতলায় তোলা নিজস্ব ছবি৷

ফেলে দিয়েছে৷ রাজ্যে শিশু মৃত্যুর হার যেখানে হাজারে ২০, সেখানে শহর ও গ্রামকে আলাদা করে হিসাব করে দেখা গেছে, শহরাঞ্চলে শিশু মৃত্যুর হার হাজারে ২৫, গ্রামাঞ্চলে এই গড় ১৯৷ শুধু তাই নয়, মাতৃদুগ্দ পান করানোর ক্ষেত্রে মহিলাদের মধ্যে প্রবণতা বেশি দেখা যায় গ্রামাঞ্চলেই৷ শহরে শিক্ষিত মহিলারা, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের মহিলাদের মধ্যে নবজাতককে স্তন্যদানের ক্ষেত্রে দূর্বলতাই ফুটে উঠেছে৷ এই মহিলাদের অনেকেই নবজাতককে মাতৃদুগ্দ পান করাতে অনীহা প্রকাশ করে থাকেন৷ এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বুধবার আশা কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী৷ তাঁর বক্তব্য, গ্রামীণ এলাকায় নবজাতকরা শহরাঞ্চলের তুলনায় অনেকটাই সুরক্ষিত৷ ফলে, এখন আশা কর্মীদের শহরাঞ্চলের মহিলাদের দিকেও বিশেষভাবে নজর দিতে হবে৷ তবে, শহুরে শিক্ষিত মহিলাদের আশা কর্মীদের কাছ থেকে আদৌ সহায়তা নিতে রাজী হবেন কিনা, সেবিষয়েও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন৷
এদিন, রাজ্যভিত্তিক সেরা আশা সম্মাননা- ২০১৭ পুরস্কার প্রদান করা হয়৷ আটটি জেলার আশা কর্মীদের মধ্যে সেরা বাছাই করে পুরস্কার দেওয়া হয়৷ পাশাপাশি আটটি জেলার মধ্যে ধলাই জেলা সেরা জেলা হিসেবে পুরসৃকত হয়েছে৷ এই অনুষ্ঠানে উঠে আসে গ্রাম ও শহর এলাকায় শিশু ও মায়েদের অবস্থার বাস্তব চিত্র৷ সুরক্ষিত মা এবং নিরাপদ প্রসব ও শিশুর জন্মের ক্ষেত্রে এক বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাল্যবিবাহ৷ এবিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এসপিও আরসিএইচ ডাঃ কমল রিয়াং বলেন, এখনো রাজ্যে ৪২ শতাংশ মেয়েদের প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে উঠার আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে৷ আর্থিক অনটনের কারণে অনেকেই মেয়েদের ১৮ বছরের আগেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন৷ স্বাভাবিকভাবে, বয়ঃসন্ধির আগেই ঐ গৃহবধূরা গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছেন৷ ফলে, সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে মা ও শিশু উভয়েই ঝুঁকির মুখে পড়ছেন৷ এজন্য আশা কর্মীদের দায়িত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বয়ঃসন্ধির আগে যেসব মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে তাদের সঠিক সময়ের আগে গর্ভবতী হওয়া এড়াতে সচেতন করে তুলতে হবে৷
এদিন এই অনুষ্ঠানে এছাড়াও উঠে আসে রাজ্যে ধূমপায়ী মহিলার সংখ্যা মোট মহিলা জনসংখ্যার ৪২ শতাংশ৷ পাহাড়ী জনপদে উপজাতি অংশের মহিলাদের মধ্যে এতদিন ধূমপানের প্রবণতা দেখা গেছে৷ কিন্তু, এখন শহরাঞ্চলেও মহিলাদের একাংশ ধূমপান করে থাকেন৷ যুগের পরিবর্তনের সাথে আধুনিক সংসৃকতির ধারক হিসেবে শহুরে মহিলারাও অনেকে ধূমপান করেন৷ এবিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী বলেন, ধূমপায়ী মহিলারা কোনভাবেই সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারেন না৷ তাঁরা জেনেশুনে ভয়ানক কাজ করে চলেছেন৷ ফলে, ধূমপায়ী মহিলাদের গর্ভস্থ সন্তানরা জন্মের আগেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে৷ এবিষয়েও স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশা কর্মীদের দায়িত্ব দিয়ে বলেন, মহিলারা যারা ধূমপান করেন তাদের সচেতন করে তুলতে হবে৷ ধূমপানের ফলে গর্ভস্থ সন্তানের উপরও প্রভাব পড়ছে সেবিষয়ে সজাগ করতে হবে৷
গুরুত্ব যেখানে নবজাতকের সুস্বাস্থ্য, সেখানে মাতৃদুগ্দ পান অন্যতম আলোচ্য বিষয়৷ জন্মের এক ঘন্টার মায়ের বুকের দুধ নবজাতকের জন্য খুবই উপকারী৷ এবিষয়েও একাংশ মহিলাদের স্তন্যদান নিয়ে অনীহার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ তাঁর বক্তব্য, গ্রামাঞ্চলে মহিলারা স্তন্যদানে কোন প্রকার অনীহা প্রকাশ করেন না৷ কিন্তু, শহরাঞ্চলে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের মহিলাদের মধ্যে নবজাতককে স্তন্যদানে অনীহার প্রবণতা রয়েছে৷ এই বিষয়ে তাদের দূর্বলতা ফুটে উঠেছে৷ তাই, আশা কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের কাছে গিয়ে এবিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে৷
এদিন অনুষ্ঠানে শহরাঞ্চল এবং গ্রামাঞ্চলে শিশু মৃত্যুর হার নিয়ে কৌতুকের সুরে বলেন, এক্ষেত্রে গ্রাম শহরকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে রয়েছে৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারা রাজ্যে প্রতি হাজারে শিশু মৃত্যুর হার ২০৷ গোটা দেশে ৩৬৷ অথচ দেখা যাচ্ছে, শহরাঞ্চলে শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৫ এবং গ্রামাঞ্চলে ১৯৷ এই বিষয়েও স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশা কর্মীদের শিশু মৃত্যুর হার কামানোর ক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়েদের আরো যত্ন এবং সচেতন করার উপর জোর দেন৷