নয়াদিল্লি, ৮ অক্টোবর (আইএএনএস): দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বস্তুত ‘দুই আদর্শের লড়াইয়ের’ প্রতিফলন— এমনটাই মন্তব্য করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া অভিযোগ করেন, দেশে ‘অরাজকতার পরিবেশ’ তৈরি করতে বিরোধীরা একের পর এক ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ধরছে।
নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গৌরব ভাটিয়া বলেন, দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন এবং সাংবিধানিক সংস্থাগুলোকে দুর্বল করা হচ্ছে বলে বিরোধী দলগুলো যে দাবি করছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত।
বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “গতকাল দেশের প্রতিটি নাগরিক গর্বিত বোধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিগত ২৫ বছর ধরে—প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে—সবসময় সংবিধানকে শ্রদ্ধা করেছেন এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষা করে জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। এটি প্রত্যেকের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা।”
বিরোধী জোটকে আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিরোধী দলগুলো ক্রমাগত এক অরাজকতার কৌশল অবলম্বন করে চলেছে। তাদের একটাই অভিযোগ—গণতন্ত্র হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু এই দাবির ভিত্তি কী? এই অপপ্রচারের পক্ষে কোনও তথ্য বা প্রমাণ নেই।”
উল্টে ইন্ডিয়া জোটকে কাঠগড়ায় তুলে পঞ্জাবের আম আদমি পার্টি (আপ) সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন গৌরব ভাটিয়া। পঞ্জাবের পুরসভা নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করে তিনি অভিযোগ করেন, পঞ্জাবে আপ সরকারই প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র হত্যা করেছে।
তিনি জানান, পাতিয়ালা ও মোগা জেলার প্রায় ৫০টি ওয়ার্ডে প্রার্থী মনোনয়ন পেশে বাধা, হুমকি প্রদান এবং জোরপূর্বক ফর্ম ছিঁড়ে ফেলার মতো অনিয়মের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট সেগুলিতে পুনরায় নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে।
বিজেপি মুখপাত্রের দাবি, শীর্ষ আদালতের এত বড় কঠোর পর্যবেক্ষণের পরও রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিরোধী নেতারা সম্পূর্ণ নীরব রয়েছেন। তিনি বলেন, যে ‘স্বরাজ’-এর স্লোগান দিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল ক্ষমতায় এসেছিল, তা আজ ‘গুন্ডারাজে’ পরিণত হয়েছে।



















