গাজিয়াবাদ, ৮ অক্টোবর (আইএএনএস): ভারতীয় বায়ুসেনা (আইএএফ) শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা অভিযানের মাধ্যমে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’—এর আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং।
বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্দন এয়ার ফোর্স স্টেশনে আয়োজিত ভারতীয় বায়ুসেনা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এয়ার চিফ মার্শাল সিং বলেন, ভারতীয় বায়ুসেনা শুধু যুদ্ধ সক্ষমতার জন্যই পরিচিত নয়, প্রয়োজনের সময়ে দেশ ও মানবতার সেবায় তার অঙ্গীকারও অটুট। ভয়াবহ বন্যা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের মতো দুর্যোগের সময় বায়ুসেনার সদস্যরা দ্রুত সাড়া দিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের সীমানার বাইরেও বায়ুসেনার মানবিক দায়িত্ব অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা অভিযানের মাধ্যমে ভারত ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর নীতিকে ধারাবাহিকভাবে প্রচার করে চলেছে।
বায়ুসেনা প্রধান আরও বলেন, কমান্ডাররা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও উন্নত করতে দায়িত্ব অর্পণ করছেন এবং বায়ুসেনার প্রতিটি সদস্যের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করা হচ্ছে। প্রতিটি এয়ারম্যানই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, নিজের দায়িত্ব পালনে কোনওভাবেই দুর্বল কড়ি হয়ে না ওঠার জন্য প্রত্যেককে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে।
এর আগে তিনি বলেন, বায়ুসেনা বোঝে যে পেশাদার প্রশিক্ষণের ওপরই কার্যকর সামরিক সক্ষমতা নির্ভর করে। যুদ্ধের পরিস্থিতির মতো করেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে বিমানকর্মী ও স্থলকর্মীদের দক্ষতা স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে ওঠে। আকাশসীমা রক্ষা, দুর্যোগের সময় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া কিংবা শত্রুর বিরুদ্ধে অভিযান—প্রতিটি পরিস্থিতির জন্যই নিয়মিত বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৩২ সালের ৮ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের একটি সহায়ক বিমানবাহিনী হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের সঙ্গে এটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহিনীতে পরিণত হয়েছে।



















