নয়াদিল্লি, ৭ অক্টোবর (আইএএনএস): দিল্লির উত্তরাঞ্চলের সীমাপুরি এলাকায় বুধবার একটি বহুতল ভবনের একাংশ ভেঙে পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে প্রশাসন ও দমকল বাহিনী।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে দুটি দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ করছে।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ এক্স-এ একটি পোস্টে জানিয়েছে, সীমাপুরি এলাকায় একটি বহুতল ভবন ভেঙে পড়েছে এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। দুর্ঘটনার জেরে সীমাপুরি গোলচক্কর, ডিএলএফ ভোপুড়া এবং সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার আবেদন জানিয়েছে। উদ্ধারকারী ও অ্যাম্বুল্যান্স যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে, তার জন্য রাস্তা খালি রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে কোনও ধরনের ভিড় না করা, গাড়ি না থামানো বা পার্ক না করার পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার প্রায় এক মাস আগে রাজধানীর সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পেইং গেস্ট আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত বহুতল ভবন ভেঙে পড়েছিল। ওই ঘটনায় পাঁচ পড়ুয়া-সহ সাতজনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর দেশে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশগুলি কীভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলিকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের বেঞ্চে অ্যামিকাস কিউরি অজিত কুমার সিনহা প্রস্তাব দেন, আগের নির্দেশ অনুযায়ী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষগুলির রিপোর্ট শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া হোক। আদালত সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে।
আদালতকে জানানো হয়, সত্য নিকেতনের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জনস্বার্থ মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট গত ৭ সেপ্টেম্বর দিল্লি পুরনিগমকে (এমসিডি) রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল এবং ২৫ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল।
অ্যামিকাস কিউরি জানান, হাইকোর্টে ওই মামলার শুনানি চলতে পারে এবং একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলিকে বর্তমান মামলার বিষয়গুলির উপরও রিপোর্ট জমা দিতে বলা যেতে পারে। তিনি আরও জানান, দিল্লি ও লখনউয়ের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। দিল্লির লাজপত নগর, মালব্য নগর, সাকেত ও সরোজিনী নগর এবং লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় এই পরিদর্শন চালানো হয়েছে।
শীর্ষ আদালতকে আরও জানানো হয়, সত্য নিকেতনের বহুতল ভবন ধসের ঘটনায় যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে, সেগুলিও বর্তমান মামলায় কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপ এবং জমা দিতে চলা রিপোর্টের আওতায় রয়েছে।
অ্যামিকাস কিউরির প্রস্তাব গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত হাইকোর্টে চলা মামলার অবস্থায় কোনও পরিবর্তন না আনার সিদ্ধান্ত নেয়। একইসঙ্গে হাইকোর্টকে অল্প সময়ের ব্যবধানে জনস্বার্থ মামলাটির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার অনুরোধ জানায় শীর্ষ আদালত।
–আইএএনএস
























