কলকাতা, ৭ অক্টোবর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন বিধানসভার অধিবেশনে যোগ দেবেন না বলে বুধবার জানালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র প্রতিষ্ঠাতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সক্রিয় রাজনীতি থেকেও স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের হুমায়ুন কবীর বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী যতদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, ততদিন আমি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় যাব না এবং বিধানসভার কোনও অধিবেশনেও অংশ নেব না। এর জন্য মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের কাছেও ক্ষমা চাইব। প্রয়োজন হলে আমি রাজনৈতিক জীবন থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেব।”
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। পরে তিনি নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন। সেই আসনে মঙ্গলবার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রেজিনগর উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ এজেইউপি প্রার্থী হয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের সময় রেজিনগরে একটি বুথ থেকে অন্য বুথে অনুমতি ছাড়া যাওয়ার অভিযোগ, ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং পুলিশকর্মীদের ভয় দেখানোর অভিযোগে হুমায়ুন কবীরকে গ্রেফতার করা হয়। এক কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকের কলার ধরে টানার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। প্রায় ১২ ঘণ্টা রেজিনগর থানায় আটক থাকার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর প্রশ্ন তোলেন, কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর কীভাবে জোর করে একজন বিধায়ককে তুলে নিয়ে গিয়ে ১২ ঘণ্টা আটক রাখতে পারেন। রেজিনগরে গত দুই মাস ধরে পুলিশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি।
হুমায়ুন কবীর বলেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের পুলিশমন্ত্রীও। তাঁর অধীনে থাকা পুলিশমন্ত্রীর “দয়ার উপর” তিনি রাজনীতি করবেন না বলেও মন্তব্য করেন।
তবে বিধানসভায় না গেলেও নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের জন্য জনসেবামূলক কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানান হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, বিধানসভার সংখ্যালঘু বিষয়ক কমিটি, হাউস কমিটি, বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি, সর্বদলীয় বৈঠক বা স্পিকারের ডাকা কোনও বৈঠকেও তিনি যোগ দেবেন না। বিধানসভায় তাঁর জন্য নির্ধারিত ৮৮ নম্বর আসনটি এরপর থেকে খালি থাকবে বলেও জানান তিনি।
হুমায়ুন কবীর আরও অভিযোগ করেন, নিজের রাজনৈতিক দলের কার্যালয়েও একজন দলীয় প্রধান নিরাপদ নন এবং সেখান থেকেই পুলিশ তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে তিনি “গণতন্ত্রের প্রহসন” বলে মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, আগামী দিনে নওদার মানুষের মতামত নেবেন। মানুষ চাইলে বিধায়ক পদও ছেড়ে দিতে পারেন এবং তাঁদের অনুমতি পেলে সক্রিয় রাজনীতি থেকেও অবসর নেবেন বলে জানান তিনি।
______
























