ঢাকা, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও পড়ুয়াদের উপর হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জেসিডি)-এর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশজুড়ে তীব্র নিন্দা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের বাইরে এই ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ২৪-এর বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা আরিফুজ্জামান কোরবান, আগামী সময়-এর জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃধুল এবং সমকালের মাইনুল ইসলাম রাজু।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ইউএনবি জানিয়েছে, জেসিডির নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট মার্কেট থেকে হলের গেটের দিকে মিছিল করে যান। হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামকে আক্রমণ করাই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজনের হাতে স্থানীয়ভাবে তৈরি অস্ত্র ছিল। তাঁদের হাতে দা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ এবং বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জেসিডি কর্মীরা অস্ত্রগুলি লুকিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ। এরপর ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করতে সেখানে পৌঁছনো সাংবাদিকদের উপর হামলা চালানো হয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের উপর ‘সশস্ত্র হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি’র ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব নির্বিশেষে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবি ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বকে নিজেদের দল ও সহযোগী সংগঠনগুলির মধ্যে মৌলিক সংস্কার এবং কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। সংগঠনটির বক্তব্য, রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ে হিংসা বন্ধ করতে দলগুলির নেতৃত্বকে দায়িত্ব নিতে হবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আক্রান্ত সাংবাদিক ও পড়ুয়াদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতা যাই হোক না কেন, হামলায় জড়িত ব্যক্তি, তাঁদের সহযোগী ও মদতদাতাদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী জামায়াতে ইসলামি কি নিজেদের দল ও সহযোগী সংগঠনগুলির মধ্যে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য চলতে থাকা হিংসাত্মক লড়াই বন্ধ করার রাজনৈতিক দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে?
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডিইউজেএ)-ও হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। সংগঠনটি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
ডিইউজেএ-র নেতারা জানান, সাংবাদিকদের দা, চাপাতি, হকি স্টিক, লোহার রড এবং বেসবল ব্যাট দিয়ে মারধর করা হয়েছে। তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করে সংগঠনটি সতর্ক করেছে, হামলার পর ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।



















