বেঙ্গালুরু, ২ অক্টোবর (আইএএনএস): কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে কংগ্রেসের প্রতিবাদকে দ্বিচারিতা বলে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প ও ইস্পাতমন্ত্রী এইচ. ডি. কুমারস্বামী। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়েই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
এক বিবৃতিতে কুমারস্বামী বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে এখন কংগ্রেসের সরব হওয়া ‘লজ্জাজনক’। তিনি মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সহকর্মীদেরও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ না দিয়ে তাঁরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন।
কুমারস্বামী দাবি করেন, বিক্ষোভের মাধ্যমে যান চলাচলে বিঘ্ন এবং সাধারণ মানুষের অসুবিধা সৃষ্টি করা কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশকে অবিলম্বে মামলা করতে হবে।
তিনি বলেন, “কংগ্রেস অযথা ‘ভোট চুরি’ নিয়ে হইচই করছে। এটা যেন দানবের মুখে ভগবদ্গীতার বাণী।”
কুমারস্বামীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কংগ্রেস কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় বড় সংখ্যায় মানুষকে জড়ো করেছিলেন। তাঁর দাবি, বিবাহ ভবন, কমিউনিটি হল, বাড়ি-সহ বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে জমায়েত করে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, জনতা দল (সেক্যুলার) এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল। পরে এনডিএ-র শরিক দলগুলির নেতারাও নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন বলে দাবি করেন তিনি।
কুমারস্বামীর অভিযোগ, সেই সময় সরকার অভিযোগগুলির বিষয়ে নীরব ছিল। এখন এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কংগ্রেস রাজনৈতিক নাটক করছে। দিল্লির কংগ্রেস নেতাদের চাপের পরেই এই ইস্যু সামনে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার বেঙ্গালুরু-মাইসুরু ইনফ্রাস্ট্রাকচার করিডর বা নাইস প্রকল্প নিয়ে ওঠা অভিযোগ থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই এসআইআর ইস্যুকে সামনে এনেছেন বলে দাবি করেন কুমারস্বামী।
তাঁর বক্তব্য, তিন দিন আগে নাইস প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি নথি-সহ মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই বিষয়টি রাজনৈতিক ও জনপরিসরে আলোচনায় আসার পরেই এসআইআর ইস্যুকে সামনে আনা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কুমারস্বামী আরও বলেন, এসআইআর-এ যে অনিয়ম হয়েছে বলে তিনি দাবি করছেন, তা স্পষ্ট এবং এর জন্য নতুন করে প্রমাণের প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার বেঙ্গালুরুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে ধর্নায় বসেন। ফর্ম ৭-এর আবেদনের মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম মুছে ফেলার কথিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা এবং তদন্তের দাবি জানান তিনি।
বিক্ষোভের পর কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ভি. অনবুকুমার রাজ্যের সব নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিককে নির্দেশ দেন, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তি দাখিলের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ঘোষণা করেছেন এমন আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।



















