বিশ্রামগঞ্জ, ২৯ সেপ্টেম্বর: সর্বভারতীয় কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে মঙ্গলবার বিশালগড় জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে বিশ্রামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মোটর স্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সভা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশালগড় জেলা কংগ্রেস সভাপতি গোপীনাথ সাহা, প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অশোক দেববর্মা, প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক জয়দীপ বর্মন-সহ ব্লক ও জেলা স্তরের কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রতিবাদ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অশোক দেববর্মা ও গোপীনাথ সাহা।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রবীর চক্রবর্তী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, দেশের আর্থিক সংকট, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের দুরবস্থার জন্য বর্তমান সরকারের নীতিই দায়ী।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে বৃহৎ পুঁজিপতি গোষ্ঠী, তাদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম এবং একটি বিশেষ অংশ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়েছিল। বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হলেও পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্ট, সিবিআই, ইডি-সহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে অনেক অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রবীর চক্রবর্তীর অভিযোগ, ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্যে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি, অর্থের ব্যবহার এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে অমিত শাহের কথিত ‘জুমলা’ মন্তব্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর প্রভাব মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকারের উপর পড়ছে।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে ত্রিপুরাতেও প্রায় সব নির্বাচনেই এই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে বলে কংগ্রেসের অভিযোগ। ইভিএম, অর্থের ব্যবহার এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মতো বিষয় নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বর্তমান ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনারদের দায়মুক্তির মতো আইনি বিধান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নতুন ভোটারদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া আগের তুলনায় জটিল হয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তারও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, ভোটাধিকার মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার। কোনো প্রকৃত নাগরিকের নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায় এবং একই ব্যক্তির নাম যাতে একাধিক ভোটকেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে বৃহত্তর আন্দোলন। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে মতবিনিময় ও ঐক্যের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ত্রিপুরার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-সহ প্রশাসনের সমস্ত স্তরের আধিকারিকদের কাছে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আবেদন জানান প্রবীর চক্রবর্তী। প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায় এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম যাতে বেআইনিভাবে একাধিক ভোটকেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
প্রতিবাদ সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখার দাবি জানানো হয়।



















