কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুরে একটি বিশিষ্ট দুর্গাপুজো কমিটির ক্লাবে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে। ক্লাব সদস্যদের একাংশ হামলার পেছনে বিজেপি কর্মীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মধ্যরাতের দিকে কয়েকজন দুষ্কৃতী হরিদেবপুরের অজেয় সংহতি ক্লাবের প্রাঙ্গণে ঢুকে কয়েকজন সদস্যকে মারধর করে। ক্লাব সদস্যদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ক্লাবের সম্পত্তি ভাঙচুর করার পাশাপাশি সিসিটিভির হার্ডডিস্কও নিয়ে যায়।
আহত ক্লাব সদস্য অরিজিৎ নন্দীর মাথায় আঘাত লাগে। হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় অরিজিৎ-সহ কয়েকজন স্থানীয় কাউন্সিলর রত্না সুরের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছে।
অরিজিৎ নন্দী দাবি করেন, ঘটনাটি কোনও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ঘটেনি। তাঁর অভিযোগ, বাইরের কিছু লোক ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবের সদস্যরা ধীরে ধীরে দুর্গাপুজোর আয়োজন বড় করেছেন এবং এখন সেই ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর রত্না সুর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ঘটনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, তিনি হরিদেবপুর থানার ওসিকে বারবার ফোন করলেও কোনও সাড়া পাননি।
রত্না সুর আরও অভিযোগ করেন, এর আগে বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বাড়িতে হামলা এবং দোকান বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এবার রাজনৈতিক সংঘাত ক্লাব এবং দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির মধ্যেও ঢুকে পড়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের জবাবে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, এখন বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় যে কোনও ঘটনার জন্য বিজেপিকে দোষারোপ করা সহজ হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও দায় বা স্বার্থ নেই বলেও তিনি দাবি করেন। বাংলায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘর্ষের সংস্কৃতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগে এই ঘটনায় ক্লাব সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং পুজোর প্রস্তুতি নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।



















