লখনউ, ২৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজনৈতিক স্বার্থে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দল বারবার দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একইসঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের আপত্তিরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, কংগ্রেস এবং বিরোধী দলগুলি ধারাবাহিকভাবে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের প্রধান বিরোধী দল এবং অন্যান্য ইউপিএ-সংশ্লিষ্ট দলগুলির বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ক্ষতি করছে।
এসআইআর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রক্রিয়া নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে তা নতুন নয়। ১৯৫২, ১৯৫৭, ১৯৬১, ১৯৬৫, ১৯৬৬ এবং ২০০৩ সালেও দেশে বিভিন্ন সময়ে এসআইআর পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট করে দিয়েছে। যোগীর দাবি, কোনও যোগ্য ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লে তাঁকে প্রয়োজনীয় ফর্ম জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ফর্ম ৬ সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টও নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে বলে তিনি জানান।
যোগী আদিত্যনাথ আরও বলেন, তিন নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের সামনে এসে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। এর পরেও নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো, প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। গণতন্ত্রে হিংসা, ভাঙচুর ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনও স্থান থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলকে আক্রমণ করতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ অতীতে ক্যাগ, ইভিএম এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ২০১৯ সালে রাফাল সংক্রান্ত ক্যাগের পর্যবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। একইভাবে কংগ্রেসের সরকার কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রেও যে ইভিএম ব্যবহার হয়েছে, সেই ইভিএমকেই ‘ব্ল্যাক বক্স’ বলে অভিহিত করে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তিনি ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে জরুরি অবস্থা জারির প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসকে সংবিধানকে দুর্বল করার জন্য অভিযুক্ত করেন। পাশাপাশি, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারগুলি অতীতে বিরোধী দলের নির্বাচিত সরকারগুলিকে অসাংবিধানিক উপায়ে একাধিকবার বরখাস্ত করেছে বলেও অভিযোগ করেন। বালাকোট বিমান হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগও করেন তিনি।
এসআইআর নিয়ে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি এবং অন্যান্য বিরোধী দলের প্রতিবাদ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন দেশ শাসন করা কংগ্রেস বারবার নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করেছে। তাঁর প্রশ্ন, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অনিয়ম, নীতি ও কর্মকাণ্ডের কারণে নির্বাচনে পরাজিত হলে সেই দায় নির্বাচন কমিশন বা ইভিএমের ওপর চাপানো কতটা যুক্তিসঙ্গত?
বিরোধী দলগুলিকে আত্মসমীক্ষা করারও পরামর্শ দেন যোগী আদিত্যনাথ।
— আইএএনএস



















