News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • ত্রিপুরায় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রূপান্তরের অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরলেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে
Image

ত্রিপুরায় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রূপান্তরের অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরলেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনেআজ ‘আরোগ্য মন্থন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিসেবা ব্যবস্থাকে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা সরকারের চলমান প্রচেষ্টার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’র আট বছর এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন’ (এবিডিএম)-এর পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি, নাড্ডা। এছাড়াও ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির সিইও ড. সুনীল কুমার বার্নওয়াল এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে, ত্রিপুরা সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে স্বাস্থ্য পরিসেবার ডিজিটাল রূপান্তর বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেন। তিনি ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম’ (আইএইচএমআইএস) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ত্রিপুরার দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

আলোচনাকালে শ্রী গিত্যে ত্রিপুরার সেই দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাখ্যা করেন যার লক্ষ্য হলো বিচ্ছিন্ন ও কাগজ-নির্ভর স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে একটি সংযুক্ত, আন্তঃকার্যক্ষম এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা; যেখানে ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম’কাজ করবে পরিচালনগত মেরুদণ্ড হিসেবে এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন’প্রদান করবে আন্তঃকার্যক্ষমতার কাঠামো।

তিনি উল্লেখ করেন যে, আই এইচ এম আই এস এর উদ্দেশ্য কেবল হাসপাতালের নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে কম্পিউটারাইজড বা ডিজিটাল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো একটি সাধারণ ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে নাগরিক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচিকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ডসংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, রোগীর অপেক্ষার সময় হ্রাস, উন্নত জরুরি পরিষেবা, স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া, রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং, অ্যানালিটিক্স ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা এবং অভিযোগের আরও ভালো সমাধানের সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজ্যের ডিজিটাল স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে শ্রী গিত্যে জানান যে, ত্রিপুরা তাদের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা রূপান্তরের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবরকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এই কার্যক্রমটি সমগ্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থা জুড়ে-যার মধ্যে রয়েছে জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র-সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। একই সাথে সংযোগ ব্যবস্থা, হার্ডওয়্যার, প্রশিক্ষণ এবং পরিচালনগত বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসচিবশ্রী গিত্যে এবিডিএম-এর বিভিন্ন মূল উপাদান-যেমন আভা, স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রি, স্বাস্থ্যকর্মীদের রেজিস্ট্রি, আন্তঃকার্যক্ষমতাসম্পন্ন স্বাস্থ্য রেকর্ড এবং সম্মতি-ভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদান-এর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। নাগরিকদের জন্য এই রূপান্তরের ফলে ডিজিটাল নিবন্ধন, আভা-ভিত্তিক পরিচিতি শনাক্তকরণ, ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন ও ল্যাবরেটরি রিপোর্ট, ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড সুবিধা পাওয়া এবং কাগজের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আলোচনার একটি প্রধান বিষয় ছিল স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের মানদণ্ড এবং আন্তঃকার্যক্ষমতার ভূমিকা। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি, ফার্মেসি এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচিগুলোর মধ্যে একটি কাঠামো তৈরি করবে। এর ফলে তথ্যের আদান-প্রদান আরও কার্যকর হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের বিষয়টি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ও প্রায়-বাস্তব-সময়ের চিত্র বা তথ্য পাবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ত্রিপুরার মতো ছোট রাজ্যের ক্ষেত্রে আন্তঃকার্যক্ষমতা বিভিন্ন কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে ওঠার প্রবণতা রোধ করতে পারে।

একই সাথে, এটি অ্যানালিটিক্স, ড্যাশবোর্ড, ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা এবং এআই -চালিত অ্যাপ্লিকেশনের মতো ভবিষ্যৎ উদ্ভাবনগুলোর জন্য একটি সাধারণ ডিজিটাল ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করবে। এর বাস্তবায়নের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে শ্রী গিত্যে জোর দিয়ে বলেন যে, সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি হলো ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলোর যথাযথ ব্যবহারশুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট পরিষেবা বা সুবিধাগুলো

চালু করা নয়। রাজ্য সরকার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর আওতায় রাজ্যের আটটি জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত দক্ষতা ও সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্যানেল আলোচনায় ত্রিপুরা সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিবের অংশগ্রহণ একটি জাতীয় মঞ্চে রাজ্যের চলমান আই এইচ এম আই এসএবংএবিডিএম-এর অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরার এবং একটি আধুনিক, প্রযুক্তি-চালিত ও সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য ও পরিকল্পনা সবার সামনে তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে।
———

Releated Posts

আত্মকেন্দ্রিক ভাবনা থেকে মুক্ত হয়ে সবাইকেসাথে নিয়ে চলতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে এবং মোহনপুর পুর পরিষদ ও মোহনপুর পঞ্চায়েত সমিতির যৌথ সহযোগিতায়…

ByByReshmi Debnath Sep 25, 2026

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ-সহ চার দফা দাবিতে আন্দোলনে পাঁচ বাম দল

আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের…

ByByReshmi Debnath Sep 25, 2026

কর্মরত অবস্থায় খিলপাড়া আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের এএনএম কর্মীর আকস্মিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, উদয়পুর, ২৫ সেপ্টেম্বর: কর্মরত অবস্থায় আচমকা অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল খিলপাড়া আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির (সাব-সেন্টার)-এর এএনএম কর্মী…

ByByReshmi Debnath Sep 25, 2026

রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার সর্বদা বিপদগ্রস্থ মানুষের সেবায় সচেষ্ট: পরিবহণ মন্ত্রী

আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে কিভাবে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনা যায় সে সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা এবং…

ByByReshmi Debnath Sep 25, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top