নয়াদিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে এর সাফল্য ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাবের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ভারতে উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং রপ্তানি তিন ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। এর প্রভাব বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান বলেও জানান তিনি।
এক্স-এ এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ভারতে আরও বেশি উৎপাদন। ভারতে আরও বেশি বিনিয়োগ। ভারত থেকে আরও বেশি রপ্তানি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন দৃশ্যমান।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ সালে ভারতে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১.৯ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৩.১১ লক্ষ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় সাত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ৪৬,৪২৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রেকর্ড ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী উৎপাদন, নকশা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে ভারতকে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সূচনা হয়। বর্তমানে এই উদ্যোগের আওতায় ২৭টি ক্ষেত্র রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি উৎপাদন এবং ১২টি পরিষেবা ক্ষেত্র।
ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন উৎপাদনেও বড় বৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে যেখানে মোবাইল ফোন উৎপাদনের মূল্য ছিল প্রায় ১৮,০০০ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৬.২৭ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৩৩ গুণ বৃদ্ধি। উৎপাদনের পরিমাণের নিরিখে ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক দেশ।
সরকারি তথ্যপত্র অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে ভারতে যানবাহন উৎপাদনের পরিমাণ ৩.১০৩ কোটি ইউনিটে পৌঁছেছে, যা ২০১৪-১৫ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ সালের তুলনায় ২০২৪-২৫ সালে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
ওষুধ শিল্পের ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। উৎপাদনের পরিমাণের নিরিখে ভারত বর্তমানে বিশ্বে তৃতীয় এবং মূল্যের নিরিখে একাদশ স্থানে রয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে এই শিল্পের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ৪,৭১,৮৯৮ কোটি টাকা হয়েছে। ২০২০-২১ থেকে এই সময়ে বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার ছিল ৯.৫ শতাংশ।
এছাড়া দেশে চিকিৎসা সরঞ্জামের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনও বেড়েছে। ২০১৯-২০ সালে ২৮,০০০ কোটি টাকা থেকে ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪১,৫০০ কোটি টাকা, যা ৪৮.২ শতাংশ বৃদ্ধি।
এর আগে শুক্রবার বারাণসী থেকে বদোদরা হয়ে ভাদনগরের উদ্দেশে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অধীনে যাত্রা করা ‘সেবা যাত্রা’র অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে হবে। চ্যালেঞ্জ আসবে। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার মূল্যবোধ ও মানসিকতা আমাদের রয়েছে। তাই প্রতিদিন নতুন শক্তি ও সেবার মনোভাব নিয়ে জাতীয় কল্যাণ ও জাতীয় সেবার কাজ করতে হবে। ‘জনসেবা মানেই রাষ্ট্রসেবা’ এই মন্ত্রকে জীবনের অংশ করতে হবে।”



















