কোহিমা, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন এমন শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগাল্যান্ড স্টেট কমিশন ফর প্রোটেকশন অব চাইল্ড রাইটস। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা, মাদকাসক্তি এবং প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করা শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধার ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার কোহিমার লোক ভবনে এনএসসিপিসিআর-এর আধিকারিকদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করেন নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল নন্দকিশোর যাদব। বৈঠকে শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
লোক ভবনের এক আধিকারিক জানান, বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে ২০২৩ সাল থেকে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রমের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়। নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন জেলায় কিশোর বিচার (শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৫, শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন (পকসো), ২০১২, শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯ এবং শিশু ও কিশোর শ্রম (নিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৮৬ কার্যকর করার বিষয়টি কমিশন পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানানো হয়।
আদিবাসী সংগঠন, গ্রাম পরিষদ, স্কুল এবং বিভিন্ন দফতরের জেলা পর্যায়ের আধিকারিকদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি করা হয়েছে বলেও কমিশন জানিয়েছে।
এছাড়া পুলিশ, বিচারব্যবস্থা, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম দফতর এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চাইল্ড কেয়ার প্রতিষ্ঠান, অবজারভেশন হোম, স্পেশাল হোম এবং স্কুলগুলিও পরিদর্শন করেছে কমিশন।
লোক ভবনের বিবৃতি অনুযায়ী, শিশু অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে রেডিও এবং দূরদর্শনে আলোচনা অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছে। নাগাল্যান্ড পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের পাঠ্যক্রমে জেজে আইন ও পকসো আইন-এর বিভিন্ন বিধান অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগও শুরু হয়েছে।
কমিশন রাজ্য ও জেলা স্তরে পুলিশকর্মীদের জন্য জেজে আইন এবং পকসো আইন নিয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘চাইল্ড ফ্রেন্ডলি মিডিয়া’ এবং শিশু সুরক্ষায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কর্মশালাও করা হয়েছে।
সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াংয়ে অনুষ্ঠিত একটি সমন্বয়মূলক কর্মসূচিতেও কমিশন অংশ নেয় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শিশু অধিকার ও সুরক্ষা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘তাওয়াং ঘোষণা’ প্রণয়নের আলোচনায় অংশগ্রহণ করে।
পর্যালোচনা বৈঠকে কমিশন জানায়, যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন এমন শিশুদের জন্য পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা, মাদকাসক্তি এবং প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন শিশুদের জন্য আরও উন্নত পরিষেবার প্রয়োজন রয়েছে।
কমিশনের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে অতিরিক্ত সদস্য ও নিয়মিত কর্মী নিয়োগ এবং অনুদান বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে আদালত ও থানায় শিশু-বান্ধব কক্ষ তৈরি ও উৎসাহিত করার বিষয়টিও রয়েছে, যাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্পর্শে আসা শিশুদের জন্য আরও সংবেদনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
এছাড়া সব জেলায় সচেতনতা, সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে কমিশন। মাদকাসক্তি প্রতিরোধ, শিশু পাচার ও শোষণ রোধ, অনলাইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধী শিশুদের সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সচেতন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বৈঠকে নাগাল্যান্ডে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং শিশুদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিশনের চলমান উদ্যোগ, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার পর্যালোচনা করা হয়।



















