ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাংসদ জাফর আলমকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। দলটির শাসনামলে দুই বিরোধী কর্মী হত্যার সঙ্গে মামলাটির যোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পর একজনকে এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পর অন্য একজনকে হত্যার ঘটনায় জাফর আলম নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাঈদী ২০২৩ সালে মারা যান। অন্যদিকে, সালাহউদ্দিন আহমেদ ২০১৫ সালে নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে বাংলাদেশের বাংলা দৈনিক প্রথম আলো জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম দাবি করেন, জাফর আলমের নেতৃত্বে দু’জনকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজনকে সাঈদীর জানাজার পর এবং অন্যজনকে সালাহউদ্দিন আহমেদ অপহৃত হওয়ার পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। নিহত দু’জনই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার জাফর আলমকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাঁকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। গত বছরের ২৭ এপ্রিল ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাফর আলমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চকরিয়া ও পেকুয়ায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬টি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে খুনের মামলাও রয়েছে।
এদিকে, জাফর আলমকে গ্রেফতার দেখানোর সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির দাবি, এটি একটি ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও অযৌক্তিক’ মামলা। একটি স্থানীয় সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া সাধারণ খুনের মামলা কীভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনা যায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।
আওয়ামী লীগের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাধারণ খুনের বিচার করার জন্য গঠিত হয়নি। দলটির দাবি, কোনও হত্যাকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনতে হলে তা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত ব্যাপক বা পদ্ধতিগত হামলার অংশ হতে হবে।
বিএনপি-নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগও তুলেছে আওয়ামী লীগ। দলটির অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজনৈতিক প্রতিশোধ চরিতার্থ করতে ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করছেন। তবে এসব অভিযোগ আওয়ামী লীগের বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএএনএস



















