গুয়াহাটি, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিশ্ব গন্ডার দিবসে অসমের গন্ডার সংরক্ষণে সাফল্যের কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মঙ্গলবার তিনি জানান, বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ বৃহৎ একশৃঙ্গ গন্ডারের বাস অসমে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালে রাজ্যে গন্ডার চোরাশিকারের কোনও ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লেখেন, “এই বিশ্ব গন্ডার দিবসে সংখ্যাগুলিই কথা বলুক!” এর মাধ্যমে তিনি বৃহৎ একশৃঙ্গ গন্ডারের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণস্থল হিসেবে অসমের অবস্থান তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক রাইনো ফাউন্ডেশন (IRF) সম্প্রতি তাদের ‘২০২৬ স্টেট অব দ্য রাইনো’ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে বৃহৎ একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা ২০২২ সালের আনুমানিক ৪,০১৪ থেকে বেড়ে ৪,০৭৫ হয়েছে।
অসমে বর্তমানে প্রায় ৩,২৬০টি বৃহৎ একশৃঙ্গ গন্ডার রয়েছে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ।
অসমের দীর্ঘদিনের গন্ডার চোরাশিকারের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে শূন্য চোরাশিকারের ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। IRF-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অসমে গন্ডার চোরাশিকারের কোনও ঘটনা জানা যায়নি। ১৯৭০-এর দশকের পর এটি মাত্র দ্বিতীয় বছর, যখন রাজ্যে এমন কোনও ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি। এর আগে ২০২২ সালেও অসমে গন্ডার চোরাশিকারের কোনও ঘটনা জানা যায়নি।
অসমের গন্ডার সংরক্ষণে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখানে ২,৬০০-রও বেশি বৃহৎ একশৃঙ্গ গন্ডার রয়েছে, যা বিশ্বের কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এই প্রজাতির বৃহত্তম জনসংখ্যা।
মানস জাতীয় উদ্যান-সহ অন্যান্য এলাকাতেও গন্ডারের সংখ্যা পুনরুদ্ধারে সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চোরাশিকার কমার পিছনে উন্নত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সমন্বিত আইন প্রয়োগ, নজরদারি, বনরক্ষীদের সক্রিয় ভূমিকা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কাজিরাঙা নিয়ে সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টেও বিস্তৃত চোরাশিকার-বিরোধী ব্যবস্থার কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে শতাধিক নজরদারি শিবির, ড্রোন এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফ্রন্টলাইন দল।
তবে সংরক্ষণবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, চোরাশিকার প্রতিরোধই একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। গন্ডারের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আবাসস্থল খণ্ডিত হওয়া, আগ্রাসী উদ্ভিদের বিস্তার, জলসংকট এবং মানুষের কার্যকলাপও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গন্ডার দিবস পালন করা হয়। গন্ডার সংরক্ষণ এবং চোরাশিকার ও আবাসস্থল ধ্বংসের মতো বিভিন্ন হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।
আইএএনএস
























