নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরায় চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হল। আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজের (এজিএমসি) এমবিবিএস আসন সংখ্যা ১৫০ থেকে বৃদ্ধি করে ২৫০ করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এজিএমসিতে চিকিৎসা শিক্ষায় আগ্রহী ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরও ১০০টি আসনের সুযোগ তৈরি হল।
এই আসন বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের পাশাপাশি অন্যান্য প্রান্তের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদেরও চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষা পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এজিএমসিতে এমবিবিএস আসন বৃদ্ধির বিষয়টিকে ত্রিপুরার চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই সম্প্রসারণের ফলে রাজ্যের যুবসমাজের জন্য চিকিৎসা শিক্ষায় আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ত্রিপুরার চিকিৎসা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ত্রিপুরায় চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২৫০টি এমবিবিএস আসনের অনুমোদন পাওয়ার ফলে এজিএমসি এখন দেশের সেই সমস্ত প্রিমিয়ার মেডিকেল কলেজের তালিকায় যুক্ত হল, যেগুলিতে ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সক্ষমতা রয়েছে। এটি ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) অনুমোদিত সর্বোচ্চ আসন সংখ্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন নামী চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মৌলানা আজাদ মেডিকেল কলেজ, নয়াদিল্লি; বি. জে. মেডিকেল কলেজ, আহমেদাবাদ, গুজরাট; বেঙ্গালুরু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, কর্ণাটক; এসএমএস মেডিকেল কলেজ, জয়পুর, রাজস্থান; মাদ্রাজ মেডিকেল কলেজ, চেন্নাই, তামিলনাড়ু এবং কিং জর্জ’স মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, লখনউ, উত্তরপ্রদেশ-সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ২৫০টি এমবিবিএস আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির সক্ষমতা রয়েছে। সেই তালিকায় এজিএমসির অন্তর্ভুক্তি রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষার পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আজকের শক্তিশালী চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থা আগামী দিনের আরও সুস্থ ও সমৃদ্ধ ত্রিপুরা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চিকিৎসা শিক্ষায় আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধু উচ্চশিক্ষার সুযোগই বাড়বে না, ভবিষ্যতে আরও বেশি চিকিৎসক তৈরি হওয়ার পথও প্রশস্ত হবে। এর ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মানবসম্পদ আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এজিএমসিতে এমবিবিএস আসন ১৫০ থেকে ২৫০-এ বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চিকিৎসা শিক্ষায় রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেল। চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ত্রিপুরাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে এই আসন বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



















