নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর: আগামী ২৩ অক্টোবর আগরতলায় অনুষ্ঠিত হবে এবছরের মায়ের গমন অনুষ্ঠান। গত বছরের মতো এবছরও মহারাণী তুলসীবতী উচ্চতর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সম্মুখে মায়ের গমন অনুষ্ঠানের কেন্দ্রস্থল করা হবে। আজ মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শারদ সম্মান এবং মায়ের গমন অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই সভায় আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, আগরতলা পুরনিগমের কর্পোরেটরগণ, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, রাজস্ব দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, আইজিপি আইন শৃঙ্খলা মনচাক ইপ্পার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রস্তুতি সভায় বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিগণ দুর্গাপূজা ও প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় ডিজে বন্ধ করার আহ্বান জানান। প্রস্তুতি সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা মায়ের গমন অনুষ্ঠান সুচারুভাবে আয়োজনের জন্য রাস্তার পাশে গাছ ছাঁটাই, বিদ্যুতের তার সরানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। পুজোর সময় অ্যাম্বুলেন্সের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও সুনিশ্চিত করার জন্য আরক্ষা দপ্তরকে উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, দুর্গাপূজার সময় পুলিশি ব্যবস্থা আরও কঠোর রাখতে হবে। মায়ের গমন অনুষ্ঠানের আরও প্রচার ও প্রসার প্রয়োজন। মায়ের গমন অনুষ্ঠান দেখার জন্য বিদেশি অতিথিদেরও আমন্ত্রণ জানানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দেন। তাছাড়া দুর্গাপূজা এবং মায়ের গমন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে পর্যটকদের জন্য প্যাকেজ তৈরি করা যায় কিনা সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান। দুর্গাপূজা এবং মায়ের গমন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, সকলের সহযোগিতা ও প্রত্যাশা পূরণের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব এবং মায়ের গমন অনুষ্ঠানকে সাফল্যমন্ডিত করাই হলো সরকারের উদ্দেশ্য। নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা বজায় থাকলেই সবাই মিলে পুজোর আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব। রাজ্যে বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে দিন দিন দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বড় বড় ক্লাবগুলিকেও মায়ের গমন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি জানান, ক্লাবের পুজোর অনুমোদনের জন্য সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম চালু সহ রেজিস্ট্রেশন ফি মকুব করা হয়েছে। গতবছর আগরতলা শহরে ৬৯৭টি পুজো হয়েছে।
তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে বলেন, মায়ের গমন ত্রিপুরা রাজ্যের সংস্কৃতির দর্পণে পরিণত হচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে এই অনুষ্ঠান আগরতলায় আয়োজন করা হচ্ছে। আমাদের সবার চেষ্টা করতে হবে মায়ের গমন অনুষ্ঠান যেন পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠে।
রাজস্ব দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে সুরক্ষিত মন্ডপ তৈরি, প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় স্বেচ্ছাসেবকের দল নিযুক্তকরণ সহ পূজার সময় সৃষ্টি হওয়া অতিরিক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় আইজিপি (আইন শৃঙ্খলা) মনচাক ইপ্পার বলেন, জোর করে চাঁদা আদায়, ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করা থেকে পূজা আয়োজকদের দূরে থাকতে হবে। শারদ সম্মান এবং মায়ের গমন অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য। আজকের সভায় বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ সহ বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনাসভায় মায়ের গমন নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।



















