কলকাতা, ২১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিরুদ্ধে দলের নেতা-কর্মীদের বেছে বেছে হয়রানি ও গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রতিষ্ঠাতা ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। একইসঙ্গে নিজের দলীয় প্রার্থী ও ছেলে গোলাম নবী আজাদের হয়ে প্রচার না করার সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
কবীর জানান, এজেইউপির বেলডাঙা-১ ব্লক সভাপতি মুনাইম শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া দলের রাজ্য কমিটির সম্পাদক সুখবর মোল্লাকেও রাত ১২টার সময় তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সুখবর মোল্লাকে জাল নোট ও আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত একটি মামলায় মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে।
কবীর বলেন, রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে এবং বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে—এই অভিযোগ জানিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বহরমপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার এবং বেলডাঙা ও রেজিনগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের অবিলম্বে বদলির দাবিও জানিয়েছেন।
এদিকে, হিংসার বিষয়ে তাঁকে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে এমন একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আসার পর সোমবার বহরমপুর থানায় তলব করা হয়েছে কবীরকে। আইএএনএস ওই অডিও ক্লিপটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) প্রাসঙ্গিক ধারায় কবীরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। নোটিসে তাঁকে তদন্তকারী আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সঙ্গে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। তা না হলে বিএনএসের ২০৮ নম্বর ধারায় আইনি পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়েছে।
আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা ও রেজিনগর—দুই আসন থেকেই একসঙ্গে জয়ী হয়েছিলেন কবীর। পরে তিনি নওদা আসনটি ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়।
রেজিনগরে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠী, কংগ্রেস, সিপিআই(এম), রেভলিউশনারি পার্টি এবং এজেইউপি—এই সাত পক্ষের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটার প্রায় ৬৫ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
–আইএএনএস



















