গুয়াহাটি, ১৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): অসমের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক আইকন জুবিন গর্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সোনাপুরের জুবিন ক্ষেত্র-এ শত শত ভক্ত, পরিবারের সদস্য এবং শিল্পী সমবেত হন। প্রয়াত শিল্পীর গান গেয়ে ও শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁকে স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিও নতুন করে জোরালো হয়।
গুয়াহাটির উপকণ্ঠে অবস্থিত জুবিন ক্ষেত্র হল সেই স্থান, যেখানে গত বছর শিল্পীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল। শনিবার সেখানে ভক্তদের কণ্ঠে বারবার শোনা যায় জুবিনের গান। তিন দিনব্যাপী স্মরণ কর্মসূচির আয়োজন করে অসম সরকারের সাংস্কৃতিক বিষয়ক দপ্তর। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই কর্মসূচির শনিবার সমাপ্তি হয়।
গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সমুদ্রভ্রমণের সময় জুবিন গর্গের মৃত্যু হয়। এর একদিন পরই নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে তাঁর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে অসমজুড়ে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয় এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে তদন্তের দাবিও ওঠে।
শুক্রবার জুবিন ক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে সংগীতশিল্পী অঙ্গারাগ ‘পাপন’ মহন্ত জুবিনের স্ত্রী গরিমা শইকিয়া গর্গের সঙ্গে দেখা করেন। সমবেত মানুষের উদ্দেশে পাপন বলেন, জুবিনের গান পরিবেশন করা তরুণ শিল্পীদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। তাঁদের গানে কোনও ভুল হলে তা পরে সংশোধন করা যেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রবীণ অভিনেতা অরুণ হাজরিকা জুবিন ক্ষেত্র পরিদর্শন করে জুবিনের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবি জানান। তবে তাঁর বক্তব্য, একজনের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন অন্য কারও প্রতি অবিচার না হয়। তিনি জুবিনের শেষ ছবি ‘রই রই বিনালে’ অসমের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে পুনরায় মুক্তি পাওয়াকেও স্বাগত জানান।
জুবিনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন হাজরিকা। তিনি জানান, জুবিন তাঁর প্রতিবেশী ছিলেন এবং দেখা হলেই তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা হতো।
এদিকে শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ ১৯ সেপ্টেম্বরকে ‘জুবিন দিবস’ হিসেবে সরকারি ছুটি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে জুবিনের মৃত্যুর তদন্তের গতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। জুবিন ক্ষেত্রের উন্নয়নকাজ এখনও সম্পূর্ণ না হওয়া এবং সেখানে সীমানা প্রাচীর না থাকার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও শনিবার জুবিন গর্গকে তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় জুবিনের সঙ্গে নিজের দুটি ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘মিস ইউ জুবিন’।
জুবিন গর্গ ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের লাজারাস আইল্যান্ডের কাছে সাঁতার কাটার সময় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর এক বছর পূর্তিতে সোনাপুরের জুবিন ক্ষেত্রে তিন দিনব্যাপী ‘জুবিন দিবস’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ফুল ও নতুন গামছা দিয়ে সাজানো হয়েছে স্মৃতিক্ষেত্রটি। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়েছে।
কর্মসূচির প্রথম দিন প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে নাম-প্রসঙ্গের আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শেষ দিনে ভাগবত পাঠ ও ভাওনা পরিবেশনের আয়োজন রাখা হয়। অসম সরকারের পক্ষ থেকেও স্মৃতিক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা হয়েছে, যাতে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ নির্বিঘ্নে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ‘প্রাণের শিল্পী’ নামে ভক্তদের কাছে পরিচিত জুবিন গর্গ অসমের সমকালীন সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতে বিশেষ প্রভাব রেখে গেছেন। তাঁর গান ও শিল্পকর্ম অসমের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে রয়েছে।
জুবিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে জুবিন ক্ষেত্র তাই তাঁর ভক্তদের কাছে শুধু স্মৃতিচারণের স্থান নয়, তাঁর শিল্পীসত্তা ও সাংস্কৃতিক অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনায় জবাবদিহির দাবিরও অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
—আইএএনএস



















