নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ সেপ্টেম্বর: ভারতরত্ন এম বিশ্বেশ্বরাইয়া শুধুমাত্র একজন মহান ইঞ্জিনীয়ার ছিলেন না, তিনি ছিলেন চিন্তাবিদ, দূরদর্শী ও মনীষী। তিনি ভারতবর্ষের উন্নয়নের একজন রূপকার ছিলেন। তিনি প্রমাণ করেছেন সততা, একাগ্রতা, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং উদ্ভাবনী শক্তির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়া যায়। আজ সকালে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণে ৫৯তম ইঞ্জিনীয়ার্স ডে উপলক্ষে আয়োজিত প্রভাতফেরির সূচনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, ভারতরত্ন এম বিশ্বেশ্বরাইয়ার যুগান্তকারী অবদানকে স্মরণে রেখে প্রতিবছর ১৫ সেপ্টেম্বর দিনটি আমাদের দেশে ইঞ্জিনীয়ার্স দিবস হিসেবে পালন করা হয়। প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনা, ড্রেনেজ সিস্টেম, হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্প সারা বিশ্বকে পথ দেখিয়েছিল। ভারতবর্ষের প্রাচীন গ্রন্থাদিতেও ভারতের ইঞ্জিনীয়ারিং-এর কৌশল ও নিদর্শনের উল্লেখ আছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও আমাদের ইঞ্জিনীয়ারগণ নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে সড়ক নির্মাণ, রেলপথ নির্মাণ, বাঁধ নির্মাণ কিংবা মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সেই নির্দশন রেখে চলেছেন। কিন্তু আমাদের এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার যে ডাক দিয়েছেন সে লক্ষ্য পূরণে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, দেশ নির্মাণের মূল কারিগর হলেন ইঞ্জিনীয়ারগণ। তাদের বাদ দিয়ে বা তাদের কলা কৌশলকে বাদ দিয়ে আমরা কখনো শ্রেষ্ঠ ভারত নির্মাণের কথা ভাবতে পারি না। ইঞ্জিনীয়ারদের প্রতি অটুট আশা ও বিশ্বাস রেখেই ২০৪৭ সালের মধ্যে নতুন ও শ্রেষ্ঠ ভারত নির্মাণে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, নতুন ভারত গড়তে এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়া, স্মার্ট আপ ইন্ডিয়া গড়তে বর্তমান প্রজন্মের ইঞ্জিনীয়ারদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তি ও চিন্তাধারা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজের অন্তিম ব্যক্তির কাছে নানা সুবিধা সহজে পৌঁছে দিতে তাদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। তিনি বলেন, ভারতবর্ষকে বিশ্বের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু ইঞ্জিনীয়ার নয়, সকলস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি এফ.আই.ই-এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনীয়ার পরমানন্দ সরকার ব্যানার্জি ভারতরত্ন এম বিশ্বেশ্বরাইয়াকে সততা ও নিষ্ঠার প্রতীক বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পূর্ত দপ্তরের যুগ্ম সচিব রাজীব পাল। উপস্থিত ছিলেন পূর্ত দপ্তরের মুখ্য বাস্তুকার অনুপ কুমার দাস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণ থেকে এক সুসজ্জিত প্রভাতফেরি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পরিক্রমা শেষে পুনরায় উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণে এসে সমাপ্ত হয়। এই প্রভাতফেরিতে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী, অন্যান্য বিশিষ্টজন, মহিলা টিআইটি, টিআইটি নরসিংগড়, টিআইটি টিটিএএডিসি প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও শিক্ষিকাগণ অংশ নেন। পূর্ত দপ্তরের উদ্যোগে এবং দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনীয়ার্স, ত্রিপুরা স্টেট সেন্টার এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সহায়তায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।



















