আগরতলা, ১৫ সেপ্টেম্বর: গত ৩১ আগস্ট আগরতলা শহরের আখাউড়া রোড এলাকায় পুলিশ সুপারের গাড়ির ধাক্কায় আহত আয়েশা খাতুন। ওই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বেশ কিছুদিন জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনায় আয়েশা খাতুনের বুকে, মাথায় ও চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। জিবি হাসপাতালে চিকিৎসার পর বুক ও মাথার সমস্যা কিছুটা কমলেও তাঁর চোখের অবস্থার এখনও উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে ডান চোখ দিয়ে বর্তমানে তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বামী মুক্তা মিয়া।
মুক্তা মিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, জিবি হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের বিশেষজ্ঞরা বেশ কয়েকদিন চিকিৎসার পর তাঁকে জানান, তাঁর স্ত্রীর চোখের চিকিৎসা জিবি হাসপাতালে আর সম্ভব নয়। চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে দ্রুত বহিরাজ্যে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার ঘটনায় আহত আয়েশা খাতুনের স্বামী মুক্তা মিয়া পশ্চিম আগরতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে টি আর ০১ সি এল ০২৯৭ নম্বরের গাড়ি এবং গাড়ির মালিক আইপিএস কিশান কুমারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মামলা আইনি পথে চললেও বর্তমানে স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মুক্তা মিয়া ও তাঁর পরিবার। মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে নিজের অসহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
মুক্তা মিয়া জানান, তাঁদের বাড়ি কাঞ্চনমালা মুসলিম পাড়া এলাকায়। কর্মসূত্রে বর্তমানে তিনি আগরতলার রামনগর এলাকায় অন্যের বাড়িতে থাকেন। তিনি পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। স্ত্রীর চোখের চিকিৎসার জন্য বহিরাজ্যে নিয়ে যেতে হলে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু সেই অর্থ জোগাড় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার এবং রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে স্ত্রী আয়েশা খাতুনের চোখের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন মুক্তা মিয়া। স্ত্রীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।



















