নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০ বছর পূর্ণ করে ব্রিকস এখন ‘পরিণত হওয়ার’ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী দুই দশকের জন্য এই জোটকে নতুন ও উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্রিকসের ঐক্য ও ঐকমত্যকে এবার আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করতে হবে।
শনিবার নয়াদিল্লিতে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন এবং বহুপাক্ষিকতার শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক ব্রিকসের উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাগত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি ছিল জনকেন্দ্রিক এবং মানবতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি।
তিনি বলেন, স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্রিকসের সহযোগিতাকে আরও নিবিড় করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যেই ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০টি শহরে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২০ বছরে ব্রিকস আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে। সদস্য দেশগুলি একে অপরের মতামতকে সম্মান করে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে চলে। ব্রিকস কারও বিরুদ্ধে নয়, বরং সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করে।
২০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গে মোদি বলেন, মানবজীবনে ২০ বছর বয়স পরিণত হওয়া এবং দায়িত্বশীলতার নতুন পর্যায়ের সূচনা করে। এই সময়ে স্বপ্নের সঙ্গে দায়িত্ব যুক্ত হয় এবং সক্ষমতা নতুন দিশা খুঁজে পায়। একইভাবে ব্রিকসও এখন ‘পরিণত হওয়ার’ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ব্রিকসের বার্ষিক সভাপতিত্ব পরিবর্তনের ফলে যাতে প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী একটি ‘ব্রিকস কন্টিনিউটি অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন মেকানিজম’ গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে ‘ট্রয়কা’ ব্যবস্থার আওতায় ব্রিকসের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনা এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশ্বের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘পিরামিডের’ সঙ্গে তুলনা করে মোদি বলেন, ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু উপরের স্তরে কেন্দ্রীভূত, অথচ নিচের স্তরে থাকা বহু দেশ সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব বহন করলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা সীমিত।
তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল বিশ্ব আজ বৈশ্বিক সংকটের ক্ষেত্রে সামনের সারিতে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পিছনের সারিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলে ‘সুবিধার পিরামিড’-কে ‘অংশীদারিত্বের মঞ্চে’ রূপান্তর করতে হবে, যেখানে প্রতিটি দেশের বক্তব্যের গুরুত্ব থাকবে এবং প্রত্যেক সদস্যের স্বার্থ ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হবে।
এই লক্ষ্যেই বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ব্রিকস দেশগুলিকে যৌথভাবে ১০টি প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। আগামী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে সেই প্রস্তাবগুলিকে একটি ‘ব্রিকস রিফর্ম রোডম্যাপ’-এ পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
আইএএনএস



















