ইটানগর, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০২৯ সালের মধ্যে ‘মিশন শিক্ষিত অরুণাচল’-এর লক্ষ্য পূরণের লক্ষ্যে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার করা হচ্ছে বলে জানালেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু। জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) ২০২০ এবং ‘মিশন শিক্ষিত অরুণাচল’ কার্যকর করার মাধ্যমে সরকারি স্কুলগুলির শিক্ষার মান ও কার্যকারিতা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার ইটানগরে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ‘গোল্ডেন জুবিলি মেরিটোরিয়াস স্টুডেন্টস অ্যাওয়ার্ড’-এর রাজ্যস্তরের কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এনইপি ২০২০ বাস্তবায়নের জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন কমিউনিটি-ভিত্তিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করা হয়।
খাণ্ডু বলেন, স্কুলের সংখ্যা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে এবং ‘ইন্টার-ভিলেজ স্কুল’ মডেলকে আরও শক্তিশালী করার দিকে এগোচ্ছে সরকার। স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক, বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের উপস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সরকারি স্কুলে পড়ুয়ার ভর্তির হার উৎসাহজনকভাবে বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমে যাওয়া যখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই সময়ে অরুণাচলে ভর্তির এই বৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কৃতী পড়ুয়াদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অরুণাচল প্রদেশের ভবিষ্যতের দায়িত্ব একদিন তাঁদেরই কাঁধে নিতে হবে। তাই এখন থেকেই শৃঙ্খলাবদ্ধ, মনোযোগী এবং উৎকর্ষের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত রাজ্যস্তরের মোট ৩০ জন শীর্ষস্থানীয় পড়ুয়াকে সম্মানিত করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা স্তরে প্রায় ৮৪০ জন পড়ুয়া এই পুরস্কার পেয়েছে।
২০২২ সালে ‘গোল্ডেন জুবিলি মেরিটোরিয়াস স্টুডেন্টস অ্যাওয়ার্ড’ চালু করা হয়। ওই বছর ১৯৭২ সালে অরুণাচল প্রদেশ নামকরণ হওয়ার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছিল। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই পুরস্কার প্রদান শুরু হয়।
অরুণাচলের আদিবাসী ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে খাণ্ডু পড়ুয়াদের বাবা-মা, প্রবীণ, শিক্ষক এবং স্কুলের সমস্ত সদস্যকে সম্মান করার সংস্কৃতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, তরুণদের সার্বিক বিকাশের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরি, বেসরকারি ক্ষেত্র, উদ্যোগপতি হওয়া, স্টার্টআপ এবং অন্যান্য উদীয়মান ক্ষেত্রে অরুণাচলের তরুণদের জন্য একাধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
অরুণাচলের আরও বেশি তরুণ যাতে সশস্ত্র বাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগ দিতে পারেন, সেজন্যও রাজ্য সরকার বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করছে বলে জানান খাণ্ডু। ভারত সরকারের সহযোগিতায় পাসিঘাটে রাজ্যের প্রথম সৈনিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া পিপিপি মডেলে তাওয়াংয়ে দ্বিতীয় সৈনিক স্কুলও স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জানান, এনডিএ এবং সিডিএস-এর মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত অরুণাচলি পড়ুয়াদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি কাঠামোবদ্ধ কোচিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেনা, নৌবাহিনী, বায়ুসেনা এবং এসএসবি, আইটিবিপি, সিআরপিএফ ও বিএসএফ-সহ কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীতে অফিসার হিসেবে কর্মজীবন গড়ার সুযোগ তরুণদের সামনে আরও প্রসারিত হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অরুণাচলের পড়ুয়াদের আন্তর্জাতিক স্তরে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন খাণ্ডু। তিনি বলেন, কিউএস র্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ ১৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অরুণাচলের পড়ুয়াদের রাজ্য সরকার সহায়তা করছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী পি. ডি. সোনা, শিক্ষামন্ত্রীর উপদেষ্টা মুতচু মিথি, শিক্ষা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, শিক্ষক, পড়ুয়া এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
_______























