ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা ক্রমশ বাড়তে থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পৃথক দুই ঘটনায় এক মহিলা-সহ দুই হিন্দু নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনাগুলির একটিতে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলায় ৪৫ বছর বয়সি হিন্দু স্বর্ণকার আলিফ চন্দ্র দত্তকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার রাতে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন হামলাকারী তাঁর উপর চড়াও হয়।
বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘ডেইলি সান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহাদেবপুর বাজারে নিজের গয়নার দোকান থেকে রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বেরিয়েছিলেন দত্ত। রাত প্রায় ৯টার দিকে দুলালপাড়ায় নিজের বাড়ির কাছে পৌঁছতেই একদল হামলাকারী তাঁর পথ আটকায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।
অভিযোগ, হামলাকারীরা দত্তের কাছ থেকে প্রায় ছয় ভরি সোনা এবং ৭ লক্ষ বাংলাদেশি টাকা নগদ লুট করে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ওমর ফারুক জানান, এটি শুধুই ছিনতাইয়ের ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও শত্রুতা বা উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
অন্য একটি ঘটনায় কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় ৪৫ বছর বয়সি হিন্দু মহিলা রানি শুশীলকে নিজের বাড়ির ভিতরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ হোয়ানক ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের বাংলা দৈনিক ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে, ঘটনার সময় রানি বাড়িতে রান্না করছিলেন। সেই সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করে। তাকে দেখতে পেয়ে রানি চিৎকার করে ওঠেন। অভিযোগ, এরপর ওই ব্যক্তি তাঁর মুখ চেপে ধরে একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত রানিকে চাকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মহেশখালী থানার ওসি আবদুস সুলতান ‘প্রথম আলো’-কে জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, চুরির উদ্দেশ্যে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ওই গৃহবধূর বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। তাঁকে দেখে রানি ‘চোর, চোর’ বলে চিৎকার করলে অভিযুক্ত তাঁকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশের রংপুর শহরে অবসরপ্রাপ্ত হিন্দু স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার কয়েক দিন পরেই এই দুই ঘটনা সামনে এল।
বাংলাদেশে বিশেষ করে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। প্রাক্তন ইউনুস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে এই ধরনের ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে এবং বর্তমান বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) প্রশাসনের সময়ও তা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
(আইএএনএস)



















