ধর্মনগর, ৮ সেপ্টেম্বর: বিশ্বকর্মা পূজার চাঁদা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাফলং বাজার সংলগ্ন এলাকায় এক কন্টেনার গাড়ির চালককে মারধর এবং তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত চালকের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় একদল যুবক তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে এবং পরে তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা নিয়ে যায়।
অভিযোগকারী চালক পিন্টু মাইশো দাস কৈলাশহরের বাসিন্দা। তাঁর দাবি, সোমবার রাতে আগরতলা থেকে একটি কন্টেনার গাড়িতে অনলাইন সামগ্রী নিয়ে শিলচরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি। হাফলং বাজারের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাঁর গাড়ি থামিয়ে বিশ্বকর্মা পূজার চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ।
পিন্টুর বক্তব্য, তিনি আগেই চাঁদা দিয়েছেন বলে জানিয়ে পুনরায় চাঁদা চাওয়ার কারণ জানতে চান। এরপরই তাঁকে ফের চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ তাঁর।
পিন্টুর আরও দাবি, গাড়ির লাইন খরচ বাবদ তাঁর কাছে প্রায় ২২ হাজার টাকা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার টাকা জ্বালানি বাবদ খরচ হয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট নগদ টাকা তাঁর কাছে ছিল। অভিযোগ, মারধরের পর ওই টাকা তাঁর কাছ থেকে নিয়ে যায় যুবকদের দল।
ঘটনার পর রাতেই তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান বলে দাবি করেন পিন্টু। তবে তাঁর অভিযোগ, ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টা পরেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাঁকে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে সংবাদমাধ্যমের সামনে একটি রসিদও দেখান পিন্টু। তাঁর দাবি, ওই রসিদে ‘ধর্মনগর মিডিয়াম ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর নাম রয়েছে। রসিদে সভাপতি হিসেবে কানু চন্দ্র নাথ এবং সম্পাদক হিসেবে বিজয় দেবের নাম উল্লেখ রয়েছে বলেও তিনি জানান। বিশ্বকর্মা পূজার চাঁদা সংগ্রহের সঙ্গে ওই সংগঠনের নাম জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সকালে পিএনজি সংগঠনের কর্মকর্তারা ধর্মনগর থানায় যান বলে জানা গেছে। তাঁরা পুলিশের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।



















