নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর: তেলিয়ামুড়া মহকুমার ঘিলাতলীর বাঘবেড় গ্রামে সারা ভারত কৃষক সভার সদস্য জলিল রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় সরব হল সারা ভারত কৃষক সভার ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহতের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার আগরতলার কৃষক ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবিগুলি তুলে ধরেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অঘোর দেববর্মা, সম্পাদক রতন দাস এবং রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সিদ্দিকুর রহমান। সাংবাদিক সম্মেলনে সাম্প্রতিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের ভূমিকা আরও সক্রিয় করার দাবি জানানো হয়।
কৃষক সভার অভিযোগ, গত ২ সেপ্টেম্বর ঘিলাতলীর বাঘবেড় গ্রামে জলিল রহমানের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়। তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি জলিল রহমানের স্ত্রীকেও মারধর করে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্যরা চরম অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে তাঁদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই অবিলম্বে সরকারি সহায়তা দিয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, রবিবার দুপুরে সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সভাপতি অঘোর দেববর্মা, সম্পাদক রতন দাস, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সিদ্দিকুর রহমান ও মনোজ দাস, বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস, সিপিআইএম তেলিয়ামুড়া মহকুমা সম্পাদক সুভাষ নাথ, নারী নেত্রী গায়ত্রী দত্ত, ক্ষেতমজুর নেতা অজয় ঘোষ এবং প্রাক্তন বিধায়ক মনীন্দ্র দাস-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জলিল রহমানের বাড়িতে যান। সেখানে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে শোক ও সমবেদনা জানান।
নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলার সময় জলিল রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান কৃষক সভার নেতারা। এ সময় এলাকার বাসিন্দারাও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
কৃষক সভার পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু সংগঠনের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন এখনও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। খবর লেখা পর্যন্ত মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে রতন দাস বলেন, শুধু অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করলেই দায় শেষ হবে না। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংগঠনের আরও দাবি, ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যে আতঙ্ক ও অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা দূর করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ-প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তাঁরা।
সারা ভারত কৃষক সভার ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বক্তব্য, ঘিলাতলীর ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর ও সক্রিয় হতে হবে।
একইসঙ্গে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষকে দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে কৃষক সভা। কোনও ধরনের উত্তেজনা বা বিভাজনের পথে না গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।























