কৈলাসহর, ৬ সেপ্টেম্বর: ঊনকোটি জেলায় প্রসূতি ও তাঁর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রসবের শেষ মুহূর্তে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়া এবং জেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। মৃত প্রসূতির নাম নুর জাহানারা বেগম (২৪)।
পরিবারের কর্তা লায়েক আলি-র অভিযোগ, প্রসবের আগে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন নুর জাহানারা বেগম। প্রসবের সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে তাঁকে জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের দাবি, জেলা হাসপাতালে ওই সময় প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত প্রসূতি ও তাঁর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে জেলা হাসপাতালে সংকটজনক প্রসূতির জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একটি জেলা হাসপাতালে জরুরি প্রসূতি পরিষেবার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও পরিকাঠামো থাকা কতটা জরুরি, এই ঘটনা সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতার পরিবারে। একইসঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
তবে চিকিৎসায় গাফিলতি বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতির অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য দপ্তর বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।























