গুয়াহাটি, ৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কাজ শুধু শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা নয়, বরং গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও দেশগঠনের প্রতি দায়বদ্ধ দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও তাদের অন্যতম দায়িত্ব। রবিবার গুয়াহাটিতে গীতানগর কলেজের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন।
গীতানগর কলেজ, যা আগে কন্যা মহাবিদ্যালয় নামে পরিচিত ছিল, তার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, ভারতের তরুণ প্রজন্মই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, বায়োটেকনোলজি, মহাকাশ গবেষণা এবং উদ্যোগপতির মতো ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগ তরুণদের বিকশিত ভারত গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পড়ুয়া ও অন্যান্যদের নিয়ে ‘নো টু ড্রাগস’ বা মাদকবিরোধী শপথও পাঠ করান রাধাকৃষ্ণন। তিনি তরুণদের মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি তাঁদের বন্ধুদেরও মাদকমুক্ত জীবনের পথে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং নিজেদের সময়, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।
উপরাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রাকৃতিক সম্পদ, বিস্তীর্ণ বনভূমি এবং বিশ্বখ্যাত চা-শিল্পে সমৃদ্ধ অসমের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যটি উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অসমের অগ্রগতি ও পরিবর্তনের প্রশংসা করেন রাধাকৃষ্ণন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অসম দেশের দ্রুততম বিকাশশীল রাজ্য অর্থনীতিগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে এবং রাজ্যের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিনিয়োগের পাশাপাশি চা-বাগান এলাকার মানুষের উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অসমের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরম্পরার কথাও তুলে ধরেন উপরাষ্ট্রপতি। ভাষা, সাহিত্য, সঙ্গীত, নৃত্য, নাট্যচর্চা এবং আদিবাসী ও স্থানীয় ঐতিহ্যের মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক পরিসরে অসমের স্বতন্ত্র অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এদিন বীরত্ব ও দেশপ্রেমের প্রতীক লাচিত বরফুকনের কথাও স্মরণ করেন রাধাকৃষ্ণন। তিনি বলেন, লাচিত বরফুকনের সাহস ও দেশপ্রেম এখনও গোটা দেশের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।
গীতানগর কলেজের ৫০ বছরের শিক্ষাসেবার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অভিনন্দন জানিয়ে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, অসমের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কলেজটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিশেষ করে শিক্ষা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তরুণীকে ক্ষমতায়নে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
—আইএএনএস



















