ইম্ফল, ৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি (ইউকেএনএ)-র দুই জঙ্গি নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছে বলে রবিবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এক কর্মকর্তা জানান, পাহাড়ি চূড়াচাঁদপুর জেলার হেংলেপ মহকুমার ফাইবং গ্রামে জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় সেনা ও অসম রাইফেলস যৌথ অভিযান শুরু করে। ইউকেএনএ-র একটি শিবিরের ওপর নজরদারি চালানোর পর নিরাপত্তা বাহিনী কৌশলগতভাবে এলাকাটি ঘিরে ফেলতে শুরু করলে ইউকেএনএ সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। জবাবে বাহিনী নিয়ন্ত্রিত পাল্টা গুলি চালায়।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “গুলির লড়াইয়ে ইউকেএনএ-র দুই সদস্য নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছে।”
অভিযানের পর শিবিরে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বিদেশি নির্মিত এমএ রাইফেল (৫.৫৬ মিমি), একটি একে-৫৬ রাইফেল (৭.৬২ মিমি), একটি ল্যাথোড গান (৪০ মিমি), সাতটি ল্যাথোড গ্রেনেড, ১৫টি একে ম্যাগাজিন, ৩৭১ রাউন্ড একে-৫৬ গুলি, ৬০১ রাউন্ড এমএ রাইফেলের গুলি এবং ১৭২ রাউন্ড এসএলআর গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি কমব্যাট ইউনিফর্ম, সাতটি অ্যামুনিশন পাউচ, পাঁচটি ব্যাকপ্যাক, তিনটি কমব্যাট ব্যাগ এবং পাঁচ জোড়া জঙ্গল শু উদ্ধার হয়েছে।
এদিকে আশপাশের জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। পৃথক একটি অভিযানে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্পিয়ার কর্পসের বাহিনী মণিপুর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে জিরিবাম জেলার লেইশাবিথোল ও আহমাদাবাদের মধ্যবর্তী জঙ্গল এলাকা থেকে প্রায় ২০ কেজি ওজনের তিনটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করে। বড় ধরনের প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা এড়াতে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটনাস্থলেই আইইডিগুলি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র বলেন, এই যৌথ অভিযান মণিপুরে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা, оператив readiness এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রতিফলন।
হমর উপজাতির একটি সশস্ত্র সংগঠন ইউকেএনএ কেন্দ্র ও মণিপুর সরকারের সঙ্গে কয়েকটি কুকি ও জোমি সশস্ত্র সংগঠনের স্বাক্ষরিত ‘সাসপেনশন অব অপারেশনস’ (এসওও) চুক্তির অংশ নয়।
২০০৮ সালের আগস্ট থেকে ইউনাইটেড পিপলস ফ্রন্ট (ইউপিএফ)-এর অধীনে আটটি এবং কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (কেএনও)-এর অধীনে ১৫টি—মোট ২৩টি আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠন ভারত সরকার ও মণিপুর সরকারের সঙ্গে এসওও চুক্তির আওতায় রয়েছে।
সম্প্রতি মণিপুরের নিরাপত্তা বাহিনী চূড়াচাঁদপুর জেলা থেকে নিষিদ্ধ ইউকেএনএ-র স্বঘোষিত প্রধানকে গ্রেফতার করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিষিদ্ধ ইউকেএনএ-র স্বঘোষিত প্রধান হিসেবে পরিচিত আরসি সিংসনকে চূড়াচাঁদপুর জেলার ওল্ড গেলমোল গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। এলাকাটি মিজোরামের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সীমানা এবং মিয়ানমারের সঙ্গে অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি নেতার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী একই জেলার থিংচাওম গ্রামের জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায়। সেখান থেকে একটি ম্যাগাজিনসহ একে-৪৭ রাইফেল, একটি ম্যাগাজিনসহ ৯ মিমি পিস্তল, তিনটি আইইডি এবং দুটি বাওফেং রেডিও যোগাযোগ সেট উদ্ধার করা হয়।
(আইএএনএস)



















