নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে থাকা মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনাকে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করল বিজেপি। দলের রাজ্যসভা সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী শনিবার বলেন, কোনও স্থাপনাকে তার ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, সেটি বৈধ না অবৈধ—সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা উচিত।
এর আগে শনিবার উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন সাহারানপুর কালেক্টরেট কমপ্লেক্সের ভিতরে থাকা মসজিদটি ভেঙে দেয়। মুসলিম পক্ষের আবেদন আদালতে খারিজ হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও দফতরগুলি আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করছে। তাই ঘটনাটিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কোনও প্রয়োজন নেই। কোনও ভবন বা স্থাপনাকে তার ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেও বিচার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজেপি সাংসদের কথায়, “স্থাপনাটি যে ধরনেরই হোক, সেটি বৈধ না অবৈধ—শুধু সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিষয়টি দেখা উচিত।”
এদিকে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অনিয়মের তদন্ত নিয়েও কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের আক্রমণ করেন ত্রিবেদী। তাঁর দাবি, অ্যাসিস্ট্যান্ট কনজারভেটর অব ফরেস্ট এবং ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র রাখা স্ট্রংরুমে ভাঙচুর করে প্রশ্নপত্র বের করে নেওয়া এবং তাতে পরিবর্তন করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, ঝাড়খণ্ডে যা ঘটেছে তা শুধু ‘পেপার লিক’ নয়, বরং ‘পেপার লুট’।
এই ঘটনায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর জবাব দাবি করেন বিজেপি সাংসদ। ঝাড়খণ্ডে তাঁর দল জোট সরকারের অংশ হওয়ায় “কে এমন লুটের অনুমতি দিচ্ছে”—তা রাহুল গান্ধীকে স্পষ্ট করতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
মহাত্মা গান্ধীর তিন বাঁদরের প্রসঙ্গ টেনে ত্রিবেদী বলেন, দিল্লিতে পরীক্ষা নিয়ে সরব হওয়া রাজনৈতিক দলগুলি ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রে যেন রাহুল গান্ধীর তিন বাঁদরে পরিণত হয়েছে। চোখ বন্ধ করে কিছু দেখতে চাইছে না, কান বন্ধ করে কিছু শুনতে চাইছে না এবং মুখ বন্ধ করে কিছু বলতে চাইছে না—এমনই কটাক্ষ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, ঝাড়খণ্ডের পরীক্ষা-অনিয়ম নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকদের নীরবতা রাজ্যের পরীক্ষার্থী এবং গোটা দেশের যুবসমাজের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই নীরবতা কার্যত “বধির করে দেওয়ার মতো” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলিতে মন্ত্রিসভায় মহিলাদের কম প্রতিনিধিত্ব নিয়েও কংগ্রেসকে নিশানা করেন ত্রিবেদী। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে রাহুল গান্ধীর ‘অভিভাবকতুল্য’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে রাহুল গান্ধীকে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানোর পরামর্শ দেন তিনি।
রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে বিজেপি সাংসদ বলেন, বর্তমান সময়ে কোনও তরুণকে—বিশেষ করে “পাকা দাড়িওয়ালা বয়সে প্রবীণ যুবককে”—কিছু বোঝানো বেশ কঠিন।
তেলঙ্গানা মন্ত্রিসভা থেকে এক মহিলা মন্ত্রীর অপসারণের প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ত্রিবেদী। রাহুল গান্ধীর ‘পিতৃতন্ত্র ভেঙে দাও’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একদিকে কংগ্রেস ‘স্ম্যাশ প্যাট্রিয়ার্কি’ বলছে, অন্যদিকে একের পর এক মহিলা মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এর বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের মন্ত্রিসভায় ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক মহিলা মন্ত্রী রয়েছেন বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা।
—আইএএনএস
























