নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে শনিবার সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শ্রেণিকক্ষে উদ্ভাবনী শিক্ষাপদ্ধতির ব্যবহার, প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
নয়াদিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এই সাক্ষাৎ হয়। পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে শিক্ষাদানের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা এবং নতুন প্রজন্মের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা পূরণে আধুনিক প্রযুক্তির আরও বেশি ব্যবহার করার বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
এক শিক্ষিকার কাছে মোদি জানতে চান, জনসমক্ষে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের দ্বিধা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে তিনি কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করেন। শিক্ষিকা জানান, জনসমক্ষে কথা বলার সময় আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁরও কিছুটা নার্ভাস লাগছে বলে জানান তিনি।
হালকা মেজাজের ওই কথোপকথনে শিক্ষিকা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘আভা’ দেখে তাঁর নিজের আত্মবিশ্বাস কমে যাচ্ছে। জবাবে মোদি মজা করে জানতে চান, জনসমক্ষে কথা বলার সময় কি কারও ‘আভা’ থাকা উচিত নয়? শিক্ষিকা পাল্টা বলেন, “আপনার তো এমনিতেই ভালো আভা রয়েছে।”
অন্য এক শিক্ষিকা স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির তাঁর উদ্যোগের কথা জানান। বিষয়টি উল্লেখ করে মোদি বারাণসীর সাংসদ থাকাকালীন সময়ে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষ সচেতন হলে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নিলে সচেতনতামূলক প্রচার সমাজে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
সাক্ষাৎকারে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারপ্রাপ্তরা তাঁদের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করে তুলতে তাঁরা কী ধরনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, তা নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।
শিক্ষকরা জানান, পড়ুয়াদের বিষয়বস্তু সহজে বুঝতে সাহায্য করা এবং শ্রেণিকক্ষে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন নতুন কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। নিয়মিত শিক্ষকতার দায়িত্বের বাইরেও সমাজের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক কাজ ও উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরেন তাঁরা।
জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁদের শিক্ষকতা পেশার প্রতি নিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের কাজের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁদের ধারাবাহিক অবদান এবং পড়ুয়াদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবেই জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শনিবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ৪৮ জন স্কুলশিক্ষকের হাতে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষকদের অনন্য অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁদের নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের সম্মান জানানোই জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি পড়ুয়াদের জীবন সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিক্ষকদের এই পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়।
— আইএএনএস























