আগরতলা, ৫ সেপ্টেম্বর: দাবি আদায়ে বারবার রেললাইন কিংবা জাতীয় সড়ক অবরোধের সংস্কৃতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন জঙ্গিদের ৭২ ঘণ্টার রেল ও সড়ক অবরোধের প্রসঙ্গে এমনটাই প্রতিক্রিয়া দিলেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর পরামর্শ, সাধারণ মানুষকে সমস্যায় না ফেলে প্রয়োজনে আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচি নেওয়া হোক।
এদিন সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, আত্মসমর্পণের সময় নির্দিষ্ট নিয়মাবলি ছিল। কতজন আত্মসমর্পণ করেছেন, কতগুলি অস্ত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং কতগুলি মামলা রয়েছে, সেই সংক্রান্ত সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই পুনর্বাসন প্যাকেজ দেওয়া উচিত। হাজার হাজার নাম নথিভুক্ত করে শুধুমাত্র সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হলে তার একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, যারা সত্যিই উগ্রবাদী জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন, তাঁদের বৈধ দাবিগুলি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু অস্ত্র সমর্পণ বা সংশ্লিষ্ট কোনও অভিযোগের ভিত্তি নেই, এমন ভুয়া বা কাল্পনিক নামের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অর্থ এনে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে তা সঠিক হবে না।
প্রাক্তন জঙ্গিদের দাবি এবং বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুদীপ। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে তার কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। আত্মসমর্পণকারী উগ্রবাদীদের দাবিগুলি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করছে না বলেই বারবার রাস্তা অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু কিছু হলেই রেল কিংবা জাতীয় সড়ক অবরোধ, এই সংস্কৃতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। মুমূর্ষু রোগীরা যাতায়াত করতে পারছেন না, জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। ট্রেন ও যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কার্যত সবকিছু পঙ্গু হয়ে রয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে সুদীপ বলেন, জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। সেই আলোচনার পর অবরোধ প্রত্যাহার হতে পারে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।তাঁর পরামর্শ, মানুষকে কেন হয়রানি না করে আপনারা আমরণ অনশন করুন। আপনারা কষ্টটা আপনাদের শারীরিকভাবে নিজেদের ওপর নিন, মানুষকে কষ্ট দেবেন না।



















