আগরতলা, ৫ সেপ্টেম্বর: পুনর্বাসন চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের আন্দোলন শনিবার আরও তীব্র আকার নিল। বড়মুড়া এলাকায় জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। অভিযোগ, অবরোধের জেরে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও আটকে দেওয়া হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শনিবার দুটি অ্যাম্বুলেন্স অবরোধের মধ্যে আটকে পড়ে। এর মধ্যে কয়েকজন রোগী ডায়ালাইসিসের জন্য জিবি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। অ্যাম্বুলেন্স এগোতে না পারায় রোগীদের শেষ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে বাধ্য হতে হয় বলে অভিযোগ। ২০২৪ সালে সরকারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অস্ত্র সমর্পণ করেছিলেন সংশ্লিষ্ট জঙ্গিরা। তাঁদের অভিযোগ, চুক্তিতে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দুই বছর পরেও তার বেশ কিছু বাস্তবায়িত হয়নি। এই দাবিতে শুক্রবার থেকে জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ শুরু করেন তাঁরা। শনিবার দ্বিতীয় দিনেও অবরোধ অব্যাহত থাকে।
এদিকে, শনিবার পুলিশ অবরোধ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে এবং পুলিশের দিকে এগিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এই সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী উসকানিমূলক মন্তব্যও করেন বলে অভিযোগ। তাঁদের কেউ কেউ এখনও তাঁদের কাছে গুলি বা গোলাবারুদ রয়েছে বলে দাবি করে পুলিশকে গুলি চালানোর চ্যালেঞ্জ জানান বলেও জানা গেছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তির বিভিন্ন ধারা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। দাবিগুলি দ্রুত পূরণ না হলে আন্দোলন আরও ভিন্ন রূপ নিতে পারে বলেও তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অবরোধ চলাকালীন ওই অ্যাম্বুলেন্সগুলি বেশি গতিতে এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল। সেই কারণেই সেগুলিকে থামানো হয়েছিল বলে তাঁদের বক্তব্য। তবে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গত দুই দিনের অবরোধে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী এবং কর্মজীবী মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। দূরপাল্লার যাত্রীদেরও ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের দাবিগুলির মধ্যে সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তির বৈধ প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। তবে একইসঙ্গে আন্দোলনের আওতার বাইরে অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি পরিষেবা এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় যানবাহনকে রাখার দাবি উঠেছে।
বড়মুড়ায় উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে জাতীয় সড়ক ও রেলপথে স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন নাগরিকদের একাংশ। তাঁদের মতে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।



















