নয়াদিল্লি, ৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশলের পাশাপাশি বড়সড় একটি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে আগামী কয়েক মাসে উপত্যকায় ১০০ থেকে ১৫০ জন জঙ্গিকে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, পাকিস্তানপন্থী প্রক্সি জঙ্গি সংগঠনগুলি উপত্যকায় হুমকি বার্তা ছড়াচ্ছে। কোথাও কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনরায় বসতি স্থাপন না করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও পরিযায়ী শ্রমিকদের অবিলম্বে জম্মু ও কাশ্মীর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ধারণা, এই ধরনের হুমকি ছড়িয়ে মূল নিরাপত্তা পরিস্থিতি থেকে নজর সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান।
এক গোয়েন্দা ব্যুরোর (আইবি) আধিকারিক জানান, উপত্যকায় আইএসআইয়ের প্রধানত দুটি লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমত, জঙ্গিদের জন্য রসদ, নিরাপদ আশ্রয় ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করতে ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার (ওজিডব্লিউ) নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করা। দ্বিতীয়ত, আগামী কয়েক মাসে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ জন জঙ্গিকে উপত্যকায় ঢোকানোর জন্য বড়সড় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা।
আরও এক আধিকারিকের দাবি, আগামী দিনে উপত্যকায় এই ধরনের হুমকি চিঠির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সম্প্রতি কাশ্মীরে এক হেড কনস্টেবল এবং দুই পরিযায়ী শ্রমিক জঙ্গিদের হামলায় নিহত হয়েছেন। হুমকি চিঠিগুলিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার জন্যই এই হামলাগুলিকে বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, উপত্যকায় সক্রিয় জঙ্গিদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ওজিডব্লিউদের মাধ্যমে তাদের সহযোগী নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করাই আইএসআইয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। উদ্বেগের বিষয় হল, পরিযায়ী শ্রমিক এবং কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সম্পর্কে প্রক্সি সংগঠনগুলির কাছে অত্যন্ত নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। তাঁদের বাড়ির ঠিকানা থেকে ফোন নম্বর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি।
এক আধিকারিক জানান, ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল এবং দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের মতো সংগঠনগুলি যথাক্রমে জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তইবার প্রক্সি হিসেবে কাজ করছে বলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ধারণা। এই সংগঠনগুলির কিছু সদস্য বা সহযোগী নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভ্যন্তর থেকে নির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সন্ত্রাস দমন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হুমকি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কারণ এগুলি সাধারণ বা এলোমেলো হুমকি নয়। হুমকি চিঠিতে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর পর্যন্ত উল্লেখ থাকছে। ফলে এগুলিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করাও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে এই পরিস্থিতি নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। হুমকিকে উপেক্ষা করলে প্রক্সি জঙ্গি সংগঠনগুলি কয়েকজনকে টার্গেট করে নিজেদের হুমকি যে বাস্তব, তা প্রমাণের চেষ্টা করতে পারে। আবার হুমকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত মনোযোগ দিলে উপত্যকায় ওজিডব্লিউ নিয়োগ ও জঙ্গি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মতো মূল বিষয়গুলি থেকে নজর সরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবরও জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তইবা এবং হিজবুল মুজাহিদিনের জঙ্গিরা অনুপ্রবেশের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তবে সীমান্তে কড়া নিরাপত্তার কারণে বর্তমানে তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, আগামী দিনে হুমকি বার্তার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির একটি বড় অংশকে নির্দিষ্ট এই সমস্যার মোকাবিলায় ব্যস্ত রেখে আইএসআই তার দ্বিমুখী কৌশল বাস্তবায়নের সুযোগ নিতে চাইছে। একদিকে ওজিডব্লিউ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, অন্যদিকে বিদেশি জঙ্গিদের ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা, এই দুই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টাও চলছে বলে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি। এ ধরনের ঘটনা নিরাপত্তা বাহিনীর নজর আরও বিভ্রান্ত করতে পারে এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আইএসআই তার পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা আধিকারিকদের।
























