আগরতলা, ৩১ আগস্ট: কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণকে বিধানসভা থেকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে অধিবেশন বয়কট করল সিপিআইএম ও কংগ্রেস। আজ ত্রিপুরা বিধানসভার অধিবেশনে ডিজিপি অনুরাগ ধনকর-এর মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্কিত সুইসাইড নোটের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে সুদীপ রায় বর্মনকে দিনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এর প্রতিবাদেই বিরোধী বিধায়করা ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যান।
ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ডি.জি.পি.-র মৃত্যুর ঘটনাকে শুধুমাত্র আত্মহত্যা হিসেবে দেখিয়ে এর পেছনে থাকা সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ডি.জি.পি.-র স্ত্রী সুইসাইড নোটের মূল কপি কোথায় রয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, মৃত্যুর আগে ওই নোট হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল বলে সুদীপ রায় বর্মন দাবি করেছেন।
জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিধানসভায় দেওয়া তাঁর বিবৃতিতে সুইসাইড নোটের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি। তাঁদের দাবি, এর ফলে ঘটনাটির পেছনে কোনো প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিনের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিধানসভায় একজন নির্বাচিত সদস্যকে এভাবে বহিষ্কার করে তাঁর কণ্ঠরোধ করা গুরুতর অন্যায়। ডি.জি.পি.-র মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং প্রকৃত ঘটনা সামনে আনতে হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করে, ত্রিপুরার প্রায় ৪০ হাজার পুলিশকর্মীর স্বার্থের সঙ্গেও এই ঘটনা জড়িত। পুলিশের মহানির্দেশকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এর পেছনে কারও প্ররোচনা থাকলে সেই ব্যক্তির ভূমিকা প্রকাশ্যে আসা জরুরি।
মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও এদিন জোরালো করে বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতিতে সম্ভাব্য প্ররোচনাকারী ও প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। তাই নৈতিক কারণে তাঁর আর এক মুহূর্তও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকা উচিত নয় বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, স্পিকারের বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একজন সদস্যের বক্তব্য রাখার সুযোগ থাকা উচিত বলেও বিরোধীরা মন্তব্য করেন। সুদীপ রায় বর্মনের বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে সোমবার বিধানসভা চত্বরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে।






















