আগরতলা, ৩১ আগস্ট: বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের কবলে পড়ে ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে গ্রামের প্রধান সড়ক। প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙনে এখন চরম ঝুঁকির মুখে খোয়াই মহকুমার অজগরটিলা ও চরগণকী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালি উত্তোলন এবং ভাঙন রোধে নিম্নমানের বোল্ডার ব্যবহারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, ১৯৭৯ সালে গুংরাইছড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে পহরমুড়া জল উত্তোলন কেন্দ্র পর্যন্ত নদীর পাড়ে বোল্ডার দিয়ে কংক্রিটের সাইড বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরবর্তী সময়ে স্থায়ীভাবে তা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় ৪৭ বছর ধরে সমস্যাটি কার্যত উপেক্ষিত রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে নদী থেকে নিয়মিত বালি উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও নদীর পাড়ের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙনকবলিত এলাকার দুই প্রান্তে বালি উত্তোলনের মেশিন বসানো রয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। বৈধ অনুমতি থাকার কথা জানানো হলেও এর ফলে নদীর পাড়ের ক্ষয় আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। ভাঙনের কারণে গ্রামের প্রধান সড়কের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার একটি বড় অংশ নদীর দিকে ধসে পড়ছে। ফলে ভারী যানবাহন চলাচল কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত যানবাহনগুলি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স, দমকলের গাড়ি এবং স্কুলের যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
এই রাস্তার ওপর নির্ভর করে এলাকার একটি সরকারি ও একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা যাতায়াত করে। রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে একাধিক দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ভাঙন দেখা দিলে মাঝে মধ্যে নিম্নমানের বোল্ডার ফেলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্থায়ী পরিকল্পনা ছাড়া এই ধরনের কাজ কয়েকদিনের মধ্যেই জলের স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কাজের গুণমান ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এদিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অজগরটিলা ও চরগণকী এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, গুংরাইছড়া ব্রিজ থেকে পহরমুড়া জল উত্তোলন কেন্দ্র পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে শক্তিশালী কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে সাইড বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগের তীর খোয়াই ব্লক প্রশাসনের দিকেও। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তবে নদীভাঙন রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।






















